জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে’কে সঙ্গে নিয়ে হিরোশিমার ‘পিস মেমোরিয়াল পার্ক’ পরিদর্শন করেন ওবামা। এরপর তারা পিস মেমোরিয়াল মিউজিয়ামে যান। এ সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপের কথা স্মরণ করেন ওবামা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্টের দুঃসহ স্মৃতি ম্লান হওয়ার নয়। হিরোশিমার নীরব কান্না আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। আমার কোনও বাক্যই হিরোশিমায় আক্রান্তদের কষ্ট কমাবে না। আমি এখানে কেন এসেছি? এমন প্রশ্ন অনেকেই করতে পারেন, কিন্তু আমি এসেছি আমার মানবিক বোধ থেকে।
ওবামা বলেন, ‘বিশ্বের প্রথম এই পারমাণবিক বোমা হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ক্ষমা চাইবে না। তবে আমরা একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার করছি।’
২৫ মে ভিয়েতনাম থেকে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ প্লেনটি জাপানের নারিতা বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তবে এর আগে ওবামা নিজে এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বার বার বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের হিরোশিমা সফরকে যেন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে দুঃখপ্রকাশ বলে যেন ব্যাখ্যা করা না হয়। জাপানের মানুষের একটা অংশের দাবি সত্ত্বেও ওবামা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ‘ক্ষমা চাওয়া’র প্রশ্ন নেই।
হিরোশিমা হচ্ছে সেই শহর যেখানে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট 'লিটল বয়' নামক পারমাণবিক বোমার বিস্টেম্ফারণ ঘটানো হয়েছিল। তাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার মানুষ। সেদিন যারা কোনওভাবে বেঁচে যান, তাদের আজীবন বয়ে বেড়াতে হয় মৃত্যু যন্ত্রণা। হিরোশিমায় স্থাপিত বিভিন্ন স্থাপনা সেই যন্ত্রণা ও ক্ষতের সাক্ষী হয়ে আছে এখনও। বস্তুত প্রাণঘাতী ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক এই কর্মকাণ্ডের একক দায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। শুক্রবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে এই শহরটি পরিদর্শনে যান ওবামা।
/এফইউ/