ভারতের হরিয়ানায় বেআইনি জমি চুক্তির পর ফের নতুন বিতর্কে জড়ালেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কন্যা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট ভদ্র। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৯ সালে তার জন্য বেনামে লন্ডনে বাড়ি কিনেছিলেন বিতর্কিত অস্ত্র ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভাণ্ডারি। এ সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্রও জব্দ করার দাবি করেছে ভারতের আইটি বিভাগ। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখান করে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। এ বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার শিরোনাম করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।
ক্ষমতায় আসার পর একটি গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে ভাণ্ডারির সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে দেয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
একটি সংবাদ মাধ্যমের দাবি, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর মেয়েজামাই রবার্ট ভদ্রের সঙ্গে ভান্ডারির লেনদেন নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ওই তদন্ত রিপোর্ট এখন খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়। গত মাসে অস্ত্র ব্যবসায়ী সঞ্জয় ভাণ্ডারির ১৮টি আস্তানায় তল্লাশি চালানো হয়। তাতেই ভদ্র এবং ভাণ্ডারির মধ্যে বাড়ির লেনদেন নিয়ে চালাচালি হওয়া বেশ কিছু ই-মেইল তদন্তকারীদের হাতে উঠে আসে। বেশিরভাগ মেইলই ভাণ্ডারির এক আত্মীয় সুমিত চাড্ডাকে পাঠিয়েছিলেন ভদ্র এবং তার সহকারী মনোজ আরোরা।
সুমিত লন্ডনে থাকেন। ২০১০ সালের ৪ এপ্রিল ভদ্রকে মেইল করে চাড্ডা লন্ডনের বাড়ি মেরামতের জন্য আরও অর্থ দাবি করেন। ব্রায়ানস্টন স্কয়ারের বাড়ি মেরামতের কাজকর্ম কেমন চলছে তাও লেখেন। জবাবে ভদ্র লেখেন, বিষয়টি তিনি দেখবেন। তার সহকারী যোগাযোগ করবেন বলেও জানান।
এক্সিম রিয়েল এস্টেট নামের ইমেইল আইডি থেকে রবার্ট ভদ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন মনোজ ভাণ্ডারি। অভিযোগ, ২০০৯ সালে লন্ডনের ওই বাড়িটি (১২ নম্বর এলার্টন হাউস) কেনেন ভদ্র। ২০১০ সালের জুনে অবশ্য তিনি বাড়িটি বিক্রি করে দেন। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেননি রবার্ট ভদ্র।
সোনিয়া গান্ধীর জামাতা রবার্ট ভদ্রের বিরুদ্ধে অবশ্য এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৪ সালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গান্ধী পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কের সুবাদে রবার্ট ভদ্র লাখ লাখ রুপি বানাতে সক্ষম হয়েছেন।
ওই প্রতিবেদনে ভদ্রের প্রায় অপরিচিত একজন মানুষ থেকে রীতিমতো দেশের একজন বড় আবাসন ব্যবসায়ীতে পরিণত হওয়ার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে আছে ভদ্র কীভাবে ২০০৯ সালে রাজস্থান রাজ্যের ছোট্ট শহর কোলাবাতসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি কিনেছেন তার ইতিবৃত্ত। ভদ্র ওই সব জমি কেনা শুরুর পরপরই তৎকালীন কংগ্রেস সরকার বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। ওই প্রকল্পের জন্য ভূমির দরকার পড়ে। বলা হয় ভদ্রের কেনা জমি এ জন্য উপযোগী। ভদ্র জমি কেনা অব্যাহত রাখেন। ২০১১ সালে সরকার সৌরবিদ্যুৎ-সংক্রান্ত ওই ঘোষণা দেয়। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এমপি/