যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে হিলারি ক্লিনটনকে স্বীকৃতি দিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বৃহস্পতিবার হিলারির প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে বৈঠকের পর হিলারিকে স্বীকৃতির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে নির্বাচিত বর্তমান প্রেসিডেন্ট ওবামা। এ বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
হিলারির প্রচার শিবিরের প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় ওবামা বলেন, ‘এই অফিসে বসার জন্য হিলারির চেয়ে যোগ্যতর অন্য কেউ আছে বলে আমি মনে করি না। আমি তার সঙ্গে আছি এবং শিগগির তার সঙ্গে প্রচারে নামব।’ দেশের প্রথম নারী হিসেবে প্রেসেডেন্ট প্রার্থিতা কার্যত নিশ্চিত করে ‘ইতিহাস গড়ায়’ হিলারিকে অভিনন্দন জানান ওবামা।
এর আগে হোয়াইট হাউসে স্যান্ডার্সের সঙ্গে বৈঠক করেন ওবামা। এ সময় মনোনয়নের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন স্যান্ডার্স। তবে তিনি জানান, দলের ঐক্য জোরদার করতে শিগগিরই তিনি হিলারির সঙ্গে দেখা করবেন।
এদিকে প্রার্থিতা নিশ্চিত করার পর এবার পছন্দের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী খুঁজতে শুরু করেছেন হিলারি। বুধবার তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে জানিয়েছেন, রানিং মেট হিসেবে সর্বোচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে খুঁজছেন তিনি। হিলারি জানিয়েছেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নারীরাও তার ভাবনার বাইরে নেই।
সোমবার বার্তা সংস্থা এপি দাবি করে, এ বছর নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাশী হিলারি ক্লিনটন তার মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। এরপর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ৬টি প্রাইমারির ৪টিতেই জয় পান হিলারি। এরপর হিসেব করে দেখা যায়, বাস্তবে স্যান্ডার্সের পক্ষে আর প্রার্থিতার লড়াইয়ে টিকে থাকার কোনও রাস্তা নেই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, বাস্তবে স্যান্ডার্সের প্রার্থী হওয়ার কোনও সম্ভাবনা আর অবশিষ্ট নেই। আর এপির দাবি, বাস্তব কারণ ছাড়াই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্যান্ডার্স। এই প্রেক্ষাপটে হিলারি নিজেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপরই ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী খোঁজা শুরু করলেন তিনি।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের প্রার্থী বাছাইয়ে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের মতো একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়ার মতো করেই ডেলিগেটস আর সুপার ডেলিগেটসদের ভোটের মধ্য দিয়ে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়। বাস্ববত, এটা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হলেও মার্কিন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর একটা বড় ধরনের ভূমিকা থাকে। সাধারণত প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মতামতের ভিত্তিতেই ডেলিগেটস আর সুপার ডেলিগেটসরা সিদ্ধান্ত নেন। সাম্প্রতিক সময়ে যোগ্য রানিং মেট বেছে নেওয়া প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে বিবেচিত হয়। সে কারণেই প্রার্থিতা নিশ্চিত করেই সম্ভাব্য ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী খোঁজার কাজে মনোযোগী হয়েছেন হিলারি।
তিনি বলেছেন, ‘সবচেয়ে যোগ্য মানুষদেরই খুঁজছি আমি। সেই মানুষদের তালিকায় নারীও থাকতে পারেন।’ হিলারি জানিয়েছেন, এমন কাউকে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে পেতে চান, যিনি আকস্মিকভাবে প্রেসিডেন্টের কিছু হয়ে গেলে তার জায়গায় দায়িত্ব নিয়ে যথাযথভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারবেন। হিলারি বলেন তার কাছে, ‘এটাই যোগ্যতা বিচারের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি’।
ঠিক কবে ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারবেন, তা জানাননি হিলারি। তিনি বলেছেন, সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ঠিক কতো সময় লাগবে, তা এখনই জানেন না তিনি। সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
/এমপি/