যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফ-১৬ জঙ্গি বিমান কেনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে বিকল্প চিন্তা করছে পাকিস্তান। সেক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডান। দেশটি থেকে ১৬টি ব্যবহৃত এফ-১৬ কিনতে পারে পাকিস্তান। এ বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার শিরোনাম করেছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন।
এরইমধ্যে জর্ডানের পক্ষ থেকে পাকিস্তান সরকারকে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আলম খাত্তাক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতমাসেও ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সূত্রগুলো জানিয়েছিল, জুলাই নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আটটি এফ-১৬ জঙ্গি বিমান পেতে যাচ্ছে দেশটি। ইসলামাবাদের প্রত্যাশা ছিল, মার্কিন আইনপ্রণেতাদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত এসব জঙ্গি বিমান হাতে পাবে পাকিস্তান।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ওবামা প্রশাসন ইসলামাবাদকে জানায়, তারা পাকিস্তানের কাছে আটটি ‘এফ-১৬’ বিক্রি করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে এ বিলে সমর্থন দিলেও বিমান বিক্রিতে পাকিস্তানকে ভর্তুকি না দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন সিনেট ।
আনুমানিক ৭০০ মিলিয়ন ডলারের এ আটটি বিমানের জন্য পাকিস্তানের ২৭০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার কথা হয়। বাকি প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার মার্কিন বিদেশি সামরিক সহায়তা তহবিল থেকে ভর্তুকি দেওয়ার কথা হয়।
এফ-১৬ জঙ্গি বিমান দিয়ে পাকিস্তান বিমান বাহিনী রাতের বেলায় এবং যে কোন আবহাওয়ায় অভিযান পরিচালনা করতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্র গত ফেব্রুয়ারি মাসে বলেছিল, তারা পাকিস্তানের কাছে রাডার ও অন্যান্য সরঞ্জামের পাশাপাশি আটটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এ চুক্তির অর্থমূল্য প্রায় ৭০ কোটি ডলার।
মে মাসের গোড়ার দিকে কংগ্রেসে এক শুনানিতে মার্কিন আইনসভার সদস্যরা স্পষ্ট বলে দেন, তারা ওবামা সরকারকে পাকিস্তানের বিমান কেনায় অর্থায়ন করতে দেবেন না। পরে রিপাবলিকান পার্টির নিটের বব কর্কার বলেন, তিনি সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক-বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মার্কিন তহবিল ব্যবহার বন্ধের জন্য নিজের ক্ষমতা লাগাবেন। এর উদ্দেশ্য হবে পাকিস্তানকে এটাই বোঝানো যে, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইতে তাদের আরও বেশি কাজ করতে হবে। আফগান ও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর প্রতি পাকিস্তানের কথিত সমর্থন নিয়ে ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান উভয় পার্টির মধ্যে যে অসন্তোষ, বব কর্কারের বক্তব্যে সেটাই প্রতিফলিত হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জন কার্বি বলেন, কংগ্রেসের বিরোধিতার অর্থ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বৈদেশিক সামরিক অর্থায়নের আওতায় কোনো অর্থ ওই যুদ্ধবিমান কেনায় ব্যয় করা যাবে না।
এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র-বিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থের ব্যবস্থা না করলে পাকিস্তান অন্য কারও কাছ থেকে তুলনীয় ক্ষমতার যুদ্ধবিমান কিনতে পারে। সারতাজ বলেন, পাকিস্তান কার্যকারিতার জন্য এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে গুরুত্ব দেয় বটে, তবে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে জেএফ-১৭ থান্ডার জেট দিয়েও কাজ চলতে পারে। ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সারতাজ বলেন, এটা বন্ধ না হলে পাকিস্তানও তার ‘কৌশলগত ক্ষমতা বাড়াতে বাধ্য হবে’। সূত্র: ডন।
/এমপি/