ট্রাম্প সোমবার (১৩ জুন) তার এক পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘যেসব দেশের নাগরিকরা এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, সেসব দেশের মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তিনি প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোয়াইট হাউজে দেয়া এক বক্তব্যে ওবামা বলেন, ‘ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের ঢুকতে দেয়া বন্ধ করার যে প্রস্তাব করেছেন, তা উগ্রপন্থিদের অপপ্রচারকে আরও উসকে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইএস এবং আল-কায়েদার মতো গোষ্ঠীগুলো তাদের এই যুদ্ধকে ইসলাম বনাম আমেরিকা কিংবা ইসলাম বনাম পশ্চিমের মধ্যে যুদ্ধে পরিণত করতে চায়। এখন আমরা যদি সব মুসলমানকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করি, তাহলে আসলে আমরা তাদের ফাঁদে পা দেব এবং তাতে তাদের পক্ষে কাজ করা হবে।’
ওবামা আরও বলেন, ‘আমরা এমন যুক্তরাষ্ট্র চাই না, যেখানে কোনও গণতান্ত্রিক মতবাদের প্রতিফলন দেখা যাবে না। এটা আমাদেরকে কোনওভাবেই অধিক নিরাপদ করবে না। এর ফলে আমরা, পশ্চিমারা মুসলিমদের ঘৃণা করি বলে আইএস-এর যে অপপ্রচার রয়েছে, তা আরও উসকানি পাবে।’
চলতি বছরের জুলাই মাসেই রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ঠিক আগেই প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এই সমালোচনা করা হলো।
নিজেকে একজন মুসলিম বিদ্বেষী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেই ট্রাম্প জনগণের সমর্থন লাভের চেষ্টা করছেন। কিন্তু তার এই অবস্থানের বিরুদ্ধে এবারই প্রথম এমন কড়া বক্তব্য দিতে দেখা গেছে বারাক ওবামাকে।
/এফইউ/