অস্থিরতা পিছু ছাড়ছে না ইরাকের। দেশটির মানচিত্রের একটা অংশ এখন আইএসের হাতে বন্দি। জঙ্গিদের একের পর আত্মঘাতী হামলায় পর্যুদস্ত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি চাকরিজীবিরা। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও এর বাইরে নয়। সম্প্রতি শুধু ফালুজা থেকেই পালিয়েছেন ৮৫ হাজার ইরাকি। এ বিষয়টি নিয়ে বুধবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
চলতি সপ্তাহেই আইএসের হাত থেকে বহুল আলোচিত ফালুজা শহর পুনর্দখলের দাবি করে দেশটির সরকার। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি ১৭ জুন ২০১৬ শুক্রবার টেলিভিশনে ফালুজা পুনর্দখলের ঘোষণা দেন।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, আমরা আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম; ফালুজা পুনর্দখল করে স্বাধীন করার। আমরা তা করেছি। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী এখন ফালুজা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আইএসসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছিলো ইরাকি বাহিনী।
২০১৪ সালে ফালুজা শহর দখলে নেয় আইএস। ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল দখলে নেওয়ার কয়েক মাস আগে ফালুজা দখল করে জঙ্গিরা। মাস খানেক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় শহরটি পুনর্দখলের অভিযান শুরু করে ইরাকি বাহিনী। দেশটির রাজধানীর বাগদাদ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে সুন্নি অধ্যুষিত শহর ফালুজা।
ইরাক ও সিরিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করা জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এটি ২০১৩ সালের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে সংগঠনটির নাম ছিল ইসলামিক স্টেট অব দি ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট/সিরিয়া (আইএসআইএল/আইএসআইএস)।
ইরাক, সিরিয়া, জর্ডান ও লেবাননের অংশবিশেষ নিয়ে একটি অঞ্চলজুড়ে ‘খিলাফত’ পদ্ধতির কথিত ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে আইএস। তারা ইরাকি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে। সিরিয়ায় সরকারবিরোধী লড়াইয়েও সংগঠনটি প্রভাব বিস্তার করছে। আইএসের নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি নিজেকে তাদের অধিকৃত অঞ্চলের ‘খলিফা’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
আইএসের নেতা আবু বকর আল বাগদাদি ইরাকে ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরুর পরপরই জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত হন বলে ধারণা করা হয়।
আইএস ২০১৪ সালের ১০ জুন ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল দখল করে নেয়। একই বছরের ২৯ জুন ইরাকে ‘খিলাফত’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় তারা।
/এমপি/