ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বন্দরনগরী করাচির পরিস্থিতি সামগ্রিক উদ্বেগের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি অপহরণের শিকার হন সিন্ধু হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির পুত্র। গত বুধবার করাচিতে নিজ এলাকা লিয়াকতাবাদের কাছে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন আমজাদ সাবরি। তাকে হত্যার কয়েক ঘণ্টা পরে এর দায় স্বীকার করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাই রবিবার বৈঠকে বসেন ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা। এ বিষয়টি নিয়ে সোমবার প্রধান শিরোনাম করেছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফও উপস্থিত ছিলেন।
সিন্ধু হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সাজ্জাদ আলী শাহের পুত্র ব্যারিস্টার ওয়ায়েস আলী শাহকে গত ২০ জুন করাচির ক্লিফটন সুপারস্টোরের সামনে থেকে অপহরণ করে কিছু মুখোশধারী ব্যক্তি। ঘটনার ঘণ্টাখানেক পর পরিবার অভিযোগ দায়ের করলে এই অপহরণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোচরে আসে।
এ বিষয়ে সিন্ধু প্রদেশের মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিব প্রাদেশিক পুলিশ প্রধানের সঙ্গে পর পর তিনটি বৈঠক করেন। এই অপহরণের প্রেক্ষিতে সাধারণভাবে পুরো সিন্ধু প্রদেশে ও বিশেষভাবে করাচিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার প্রধান মিয়া রেজা রাব্বানি সিন্ধু হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সাজ্জাদ আলি শাহের সঙ্গে দেখা করে তার পুত্রের জন্য সমবেদনা ও সহানুভূতি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ব্যারিস্টার শাহকে উদ্ধারের জন্য জোরদার তৎপরতা জানানোরও আহ্বান রেখেছেন মিয়া রেজা রাব্বানি।
বিচারপতি সাজ্জাদ আলি শাহের তিন সন্তানের মধ্যে প্রথম ব্যারিস্টার ওয়ায়েস আলী শাহ এক বছর আগে একটি ল ফার্ম চালু করে আইন ব্যবসা শুরু করেন। লন্ডনের ল কলেজ থেকে পড়ালেখা শেষ করে পেশাগত জীবন শুরু করতে পাকিস্তান ফিরে আসেন তিনি।
এদিকে গত বুধবার পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কাওয়ালী শিল্পী আমজাদ সাবরি করাচিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। একদল মুখোশধারী আততায়ীর গুলিতে তার মৃত্যু হয়। ৪০ বছর বয়সী এ সঙ্গীতশিল্পী পাকিস্তানের আরেক বিখ্যাত কাওয়ালী শিল্পী গুলাম ফরিদ সাবরির পুত্র। তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে রমজানের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দুপুর ৩টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন।
মোটরসাইকেল আরোহী মুখোশধারী আততায়ীরা টিটি পিস্তল দিয়ে আমজাদ সাবরিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় আমজাদ নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। হামলাকারীরা তার পাশের সিটে বসে থাকা বন্ধুকে গুলি করেনি।
শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতসহ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান এই হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবিমতে আমজাদ সাবরি ‘ধর্ম অবমাননাকারী।’
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে পাকিস্তানের একটি টেলিভিশনে একটি কাওয়ালী গান পরিবেশন করেন আমজাদ সাবরি। সেই কাওয়ালিতে ইসলামের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অনেকের উল্লেখ ছিল। সেই মামলাটি আদালতে স্থগিতাবস্থায় রয়েছে। সূত্র: ডন।
/এমপি/