দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রিন্ট সংস্করণের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ৩৬ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী এরইমধ্যে নিহতের সংখ্যা ৪১-এ দাঁড়িয়েছে।
হামলায় নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই তুরস্কের নাগরিক। হামলায় যেসব বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানানো হয়নি।
হামলার প্রেক্ষিতে বিমানবন্দরে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। লোকজন দৌড়াদৌড়ি করতে থাকেন। হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন।
হামলার পর বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিছু ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানান, বিমান চলাচল আবার শুরু হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেছেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ে এই হামলা একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা হিসেবে কাজ করা উচিত।
এরদোয়ান বলেন, ‘আজ ইস্তানবুলে যে বোমা বিস্ফোরিত হলো, তা দুনিয়ার যেকোনো শহরে হতে পারতো।’
এ হামলার নিন্দা জানিয়ে তুরস্কের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জার্মানি থেকে একই ধরনের ঘোষণা এসেছে। সন্ত্রাস-উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক তৎপরতা জোরদার করার কথা বলেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব।
এদিকে মঙ্গলবার রাতের রক্তক্ষয়ী এই হামলার জন্য জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) সন্দেহ করা হচ্ছে। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেছেন, নিরীহ লোকজনকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা একটি গর্হিত কাজ। এ হামলা একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কাজ।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বিনালি ইলদিরিম বলেন, প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, তিন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী গুলি ছোড়ার পর নিজেদের উড়িয়ে দিয়েছে। হামলাকারীরা ট্যাক্সিতে করে বিমানবন্দরে আসে। প্রাথমিক তথ্য আইএসের জড়িত থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত করছে।
হামলার প্রাথমিক তদন্ত সম্পর্কে অবগত যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদবিরোধী দুই কর্মকর্তার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ না পেলেও এই হামলার জন্য আইএসকে সন্দেহের শীর্ষে রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করা ওই মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, নিরীহ লক্ষ্যের (সফট টার্গেট) বিরুদ্ধে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীদের ব্যবহারের বিষয়টি আইএসের সঙ্গেই বেশি যায়। অন্য সন্দেহভাজন সংগঠন নিষিদ্ধঘোষিত পিকেকে সাধারণত সরকারি লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে হামলা চালায়। সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
/এমপি/