জনসন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করলেও হঠাৎ করেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন। ভাষণে জনসন জানান, নেতৃত্ব দেওয়া বা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিশ্চিত করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে আইনমন্ত্রী মাইকেল গোভ প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে অংশগ্রহণের ঘোষণা আসার পরই জনসন তার নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। গোভ ব্রেক্সিটের পক্ষে প্রচারণায় শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছিলেন।
জনসন বলেন, ‘আমি আমার সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি, সেই সঙ্গে পার্লামেন্টের অবস্থাও ভালো নয়। এই অবস্থায় নেতৃত্ব নেওয়ার মতো সঠিক ব্যক্তিটা আমি নই।’
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে দেওয়া জনসনের এই ঘোষণাকে নাটকীয় বলে উল্লেখ করেছে বিবিসি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে প্রধানমন্ত্রিত্বের লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। তার সঙ্গে এই লড়াইয়ে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জ্বালানিমন্ত্রী আন্দ্রে লিডসাম এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স।
জনসন বলেন, ‘নতুন নেতার জন্য প্রধান কাজ হলো যুক্তরাজ্যের ঐক্য রক্ষা করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বাইরে এসে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করানো।’
এদিকে, মাইকেল গোভের কাছে তার স্ত্রীর পাঠানো একটি ইমেইলকে নিয়ে এক ধরনের জটলা তৈরি হয়, যা বরিস জনসনের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। গোভকে পাঠাতে গিয়ে ভুল করে ই-মেইলটি এক সরকারি কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেন তার স্ত্রী সারাহ ভাইন। ইমেইলে তিনি স্বামীর কাছে লিখেছেন, বরিস জনসনের হয়ে ক্যাম্পেইন চালানোর পর নতুন সরকারে গোভের ভূমিকা কী হবে তা যেন জনসনের কাছ থেকে স্পষ্ট করে জেনে নেওয়া হয়।
ব্রেক্সিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে ক্যামেরন পদত্যাগের ঘোষণা করেছেন। তাই পরবর্তী টোরি নেতা ও প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে নামছেন কনজারভেটিভ দলের নেতারা।
২৩ জুন অনুষ্ঠিত গণভোটে ব্রিটিশ জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়নে না থাকার পক্ষে রায় দেওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। আসছে অক্টোবরের মধ্যেই পদত্যাগ করবেন বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও বাসভবন ১০ নং ড্রাউনিং স্ট্রিটে গণভোটের ফলাফল নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ক্যামেরন বলেন, ‘ব্রিটিশ জনগণের জন্য এখন নতুন নেতৃত্ব দরকার। যুক্তরাজ্যের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালনকে গৌরবের মন্তব্য করে আবেগাক্রান্ত ক্যামেরন বলেন, এই ‘জাহাজ এখন একজন নতুন নাবিকে'র জন্য অপেক্ষা করছে। আসছে অক্টোবরের দলীয় সম্মেলনে নতুন প্রধানমন্ত্রী খুঁজে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
/এমপি/