যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশি হামলার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবাদ মিছিল থেকে পুলিশের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। গুলিতে হতাহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন। এদের মধ্যে চারজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও ৭ জন। এ ঘটনা নিয়ে শুক্রবার প্রধান শিরোনাম করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
এর আগে ২০১৫ সালেও সেখানকার পুলিশ সদর দফতরে হামলা হয়েছিল।
একটি বিক্ষোভ শুরুর প্রস্তুতিকালে সেখানকার খুব কাছাকাছি অবস্থান থেকে ওই হামলা চালানো হয়। সন্দেহভাজনদের খুঁজতে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
এরইমধ্যে এক সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে ডালাস পুলিশ। ওই সন্দেহভাজনকে খুঁজতে সহযোগিতা করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই ছবিতে দেখা যায়, এক আফ্রিকান-আমেরিকান ব্যক্তি রাইফেল নিয়ে হাঁটছেন। তিনি টি-শার্ট পরিহিত। টেক্সাসে প্রকাশ্যে অস্ত্র বহনের অনুমোদন রয়েছে। অর্থাৎ প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন সেখানে বৈধ।
যুক্তরাষ্ট্রে গত মঙ্গল ও বুধবার পরপর দুইদিনে দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ পুলিশের হাতে খুন হন। এই প্রেক্ষাপটেই পুলিশের ওপর হামলা চালানো হলো।
লুইজিয়ানার ব্যাটন রগ শহরে মঙ্গলবার পুলিশের গুলিতে এক কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হন। এর প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই বুধবারের কৃষ্ণাঙ্গ হত্যাকাণ্ডের আরেকটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। নতুন হত্যাকাণ্ডটি ঘটে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে।
বুধবার ছড়িয়ে পড়া নতুন ভিডিওতে দেখা গেছে মিনেসোটায় ফিলানডো ক্যাসটিলে নামের এক কৃষ্ণাঙ্গের রক্তাক্ত শরীরের দিকে গুলি তাক করে আছে পুলিশ। এই ব্যক্তির প্রেমিকার অভিযোগ, পুলিশ ফিলানডোর কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনের ব্যাপারে জানতে চেয়েছিল। ফিলানডো পুলিশকে জানান, তার কাছে একটি পিস্তল আছে এবং তা বহন করার জন্য লাইসেন্সও রয়েছে। পরে পুলিশ তাকে গুলি করে।
ঘটনার সময় ফিলানডোর পাশের আসনে বসা ছিলেন প্রেমিকা। সেখান থেকে তিনি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় বসে আছেন ফিলানডো। আর এক পুলিশ সদস্য তার দিকে বন্দুক তাক করে আছেন। পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়- ‘তার কোনও ঘটনার রেকর্ড নেই। ও কখনও জেলে ছিল না। ও কোনও গ্যাং-এরও সদস্য ছিল না।’
তখন ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি তাকে ওটা বের করতে নিষেধ করেছিলাম। তাকে হাত বের করতে বলেছিলাম।’
ওই নারী অভিযোগ করেছেন ফিলানডোকে চারবার গুলি করা হয়েছে। পুলিশকে তিনি আরও বলেন, ‘ফিলানডো তার লাইসেন্স আর রেজিস্ট্রেশনের কপি বের করতে চেয়েছিল।’
এরইমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার লুইজিয়ানার ব্যাটন রগ শহরের একটি ষ্টোরের সামনে এক কৃষ্ণাঙ্গকে হত্যার ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে। ন্যায়বিচারের দাবিতে লুইজিয়ানার রাস্তায় জড়ো হয়েছেন হাজারো বিক্ষোভকারী। কেউ কেউ আবার ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার স্লোগান দিতে থাকেন।
মঙ্গলবারের ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় ৩৭ বছর বয়সী আফ্রিকান আমেরিকান এল্টন স্টারলিংকে গুলি করেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। স্টারলিং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে স্টারলিং হত্যার ঘটনার আরেকটি ভিডিও পাওয়া গেছে।
এদিকে প্রাথমিক ময়নাতদন্তে স্টারলিং-এ বুকে ও পিঠে বেশ কয়েকটি গুলির আঘাত শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এ বছর এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের পুলিশ বাহিনী বর্ণবাদী মনোভাবে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করে বিশেষ এক মার্কিন টাস্ক ফোর্স। পুলিশের নির্বিচার গুলির বিরোধিতা করে জনগণের প্রতিবাদের মুখে বিশেষ এ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। তদন্তের পর, টাস্ক ফোর্স জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুলিশের গুলির শিকার শিকাগোর শত শত মানুষের ৭৪ ভাগই আফ্রিকান-আমেরিকান। তদন্ত প্রতিবেদনে তাই বলা হয়, শিকাগোর মানুষের মধ্যে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর প্রতি সংখ্যালঘুদের আতঙ্ক আর আস্থাহীনতা খুবই যৌক্তিক। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও একাধিকবার মার্কিন সমাজের অভ্যন্তরে বর্ণবাদের সংস্কৃতির কথা স্বীকার করেছেন।
এদিকে ডালাসে বন্দুকধারীর গুলিতে ১১ পুলিশ হতাহতের নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এই হামলাকে ঘৃণ্য এবং জঘণ্য বললেও এর পেছনে বিদ্বেষকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ন্যাটো সম্মেলনের জন্য পোল্যান্ডে অবস্থান করছেন ওবামা। সেখান থেকেই তিনি বলেছেন, এটি ‘ঘৃণ্য, পরিকল্পিত ও বিদ্বেষপূর্ণ’ একটি হামলা। নির্বিচারে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রেক্ষাপটে পুলিশের ওপর সংঘটিত এই হামলাকে বিদ্বেষের ফলাফল বললেও তিনি বলেছেন, কোনও অর্থেই এ ধরনের হামলার বৈধতা দেওয়া যায় না।
/এমপি/