দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

ক্যামেরনের কাছ থেকে কাল দায়িত্ব নিচ্ছেন থেরেসা মে

Toi

ডেভিড ক্যামেরনের কাছ থেকে আগামীকাল বুধবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন কনজারভেটিভ পার্টির রাজনীতিক থেরেসা মে। বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তিনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের পদত্যাগের পর বুধবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন তিনি। এ বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার শিরোনাম করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এর আগে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির পরবর্তী নেতা নির্বাচন এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড় থেকে হঠাৎ করেই সরে দাঁড়ান জ্বালানিমন্ত্রী আন্ড্রে লিডসম। এতে করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে’র।

কনজারভেটিভ পার্টির প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার সদস্যের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল আন্ড্রে লিডসম ও তার প্রতিপক্ষ থেরেসা মে’র। এ নির্বাচনের ফল প্রকাশের কথা ছিল ৯ সেপ্টেম্বরে। কিন্তু তার আগেই সোমবার লিডসমের প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

গত ২৩ জুন অনুষ্ঠিত গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষ জয়ী হওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা দেন দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। তিনি ইইউ’তে যুক্তরাজ্যের থেকে যাওয়ার পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, আন্ড্রে লিডসম ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে সফল প্রচার চালিয়ে জনগণের কাছে পরিচিতি পান।

প্রধানমন্ত্রীর দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে লিডসম বলেন, একটি শক্তিশালী এবং স্থিতিশীল সরকার পরিচালনার জন্য তার পক্ষে যথেষ্ট সমর্থন আছে বলে তিনি মনে করেন না। তাছাড়া, যুক্তরাজ্যের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাত্র ৯ সপ্তাহের নেতৃত্বের প্রচারণাও অনাকাঙ্খিত একটি ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থেরেসা মে গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ সদস্যদের ভোটে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন বলেও স্বীকার করেন লিডসম। কনজারভেটিভ এমপি’দের ৬০ শতাংশেরই সমর্থন পেয়েছেন থেরেসা।

সাংবাদিকদের কাছে একটি বিবৃতি পড়ে শুনিয়ে লিডসম বলেন, ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার কাজ শুরুর জন্য জরুরি ভিত্তিতে দেশে শক্তিশালী নেতৃত্ব দরকার।

তিনি বলেন, আমি এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, শক্তিশালী এবং ভাল জনসমর্থন আছে এমন একজন অবিলম্বে দায়িত্ব নিলে আমাদের দেশের স্বার্থ সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা পাবে। আর তাই আমি দলের নেতৃত্বের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। আমি থেরেসা মে’র সাফল্য কামনা করছি এবং তাকে আমার পূর্ণ সমর্থনের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

গত ছয়বছর ধরে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা ৫৯ বছর বয়সী থেরেসা মে এখন দায়িত্ব নিলে তিনিই হবেন মার্গারেট থ্যাচারের পর দেশটির দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।

/এমপি/