ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় নিস শহরে বাস্তিল দিবসের উৎসবে জড়ো হওয়া জনতার ওপর ভয়ঙ্কর ট্রাক হামলা চালানো হয়েছে। এতে শিশুসহ অন্তত ৮৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। ১৪ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
আতশবাজির প্রদর্শনী উপভোগ করতে শহরের বিখ্যাত প্রমনেদ দেস অঁলেতে বহু লোক জড়ো হয়েছিলেন। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে আতশবাজির প্রদর্শনী শেষ হওয়ার পর এক চালক একটি ভারী ট্রাক দ্রুতগতিতে জনতার ওপর তুলে দেন। জনতার মধ্য দিয়ে ট্রাকটি প্রায় দুই কিলোমিটার মাড়িয়ে যায়। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১৮ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। টুইটারে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, বেশ কিছু মানুষ সড়কে পড়ে আছে। ঘটনার একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। নিহত হওয়ার আগে ট্রাকচালকও গুলি চালিয়েছিলেন। ওই ট্রাকটির ভেতরে আগ্নেয়াস্ত্র ও গ্রেনেড পাওয়া গেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ট্রাকচালকের বয়স ৩১ বছর। স্থানীয় এই বাসিন্দা তিউনিসিয়ার বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক। ট্রাকচালক একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, নাকি তার সঙ্গে আরও কেউ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তবে ঘটনার দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি। সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তারা ঘটনাটি তদন্ত করছেন।
নিস শহরটি ইতালি সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, এটা যে সন্ত্রাসী হামলা, তা অস্বীকার করা যায় না।
সবশেষ এই ঘটনার পর ফ্রান্সে জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ওলাঁদ। একই সঙ্গে ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ফরাসি সরকারের পদক্ষেপ জোরদার করার কথা বলেছেন তিনি।
গত বছরের নভেম্বরে প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার কয়েক মাসের মাথায় দেশটির নিস শহরে হতাহতের ঘটনা ঘটল। প্যারিসে হামলায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হন। আহত হয় কয়েকশ মানুষ।
এদিকে ফ্রান্সের নিস শহরের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, এটি একটি ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা’। ফ্রান্সকে হামলাকারীদের বিচারে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহায়তা দেবে বলে জানান ওবামা। এক বিবৃতিতে ওবামা বলেন, নিসের এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় অনেক সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পক্ষ থেকে তিনি এই হামলার নিন্দা জানাচ্ছেন।
বারাক ওবামা বলেন, পুরোনো বন্ধু ফ্রান্সের পাশে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় আছে। আমরা জানি এই হামলা ও প্রাণহানির ক্ষত ফ্রান্সকে অনেক দিন বয়ে বেড়াতে হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, প্যারিসে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস মার্কিনিদের ব্যাপারে খোঁজখবর করছে। কেরি এক বিবৃতিতে বলেন, এই দুঃসময়ে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সের পাশে থাকবে। ফ্রান্সকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা ও সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে হিলারি ক্লিনটন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপীয় মিত্রদেশ ও ন্যাটোর সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। উগ্রবাদী জঙ্গি দমনে আমাদের লড়াই চালাতে হবে। বুঝতে হবে এটি অন্যরকম যুদ্ধ।
একই অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যদি তিনি নির্বাচিত হন তাহলে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে কংগ্রেসকে আহ্বান জানাবেন। আজ রানিংমেট ঘোষণার পরিকল্পনা ছিল ট্রাম্পের। ভয়াবহ হামলার কারণে তিনি তা বাতিল করেছেন।
/এমপি/