দ্য গার্ডিয়ান

প্রশাসন থেকে গুলেনপন্থীদের অব্যাহতি দিচ্ছেন এরদোয়ান

তুরস্কে ‘ব্যর্থ অভ্যুত্থান’-এর পরিকল্পনাকারী হিসেবে গুলেন মুভমেন্ট-এর নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করে প্রশাসন থেকে তার সমর্থকদের সরিয়ে দিচ্ছে এরদোয়ান সরকার। এ বিষয়টি নিয়ে সোমবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

এরইমধ্যে তুরস্কে অভ্যুত্থান চেষ্টার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রায় ৮ হাজার পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর আগে দেশটির সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রায় ৬ হাজার সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর কয়েকজন জেনারেলও রয়েছেন।

অভ্যুত্থান চেষ্টা নিয়ন্ত্রণের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেছেন, রাষ্ট্রের সব স্তর থেকে ‘ভাইরাস’ ঝেড়ে ফেলা হবে। ভাইরাস বলতে তিনি অভ্যুত্থান চেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বুঝিয়েছেন।

The Guardian

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, সোমবার দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ জেনারেল ও অ্যাডমিরালকে আটক করা হয়েছে।

রবিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের জন্য ফেতুল্লাহ গুলেনের বিষয়ে মুখ খোলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। তিনি বলেন,‘এর মধ্যেই আমি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে জানিয়েছি যাতে পেনসিলভানিয়ার সেলোরসবার্গের ৪০০ একরের বাসভবন থেকে গুলেনকে উৎখাত করে তুরস্কের হাতে তুলে দেওয়া হয়।’

রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেন,‘যে ঘটনাটি (ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা) ঘটেছে তা অনৈতিক ও বেআইনি। যে গোষ্ঠী এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা কোনোভাবেই একটি গণতান্ত্রিক দেশের সেনার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না।’

এদিকে এরদোয়ানের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, ‘আমরা জানতাম গুলেন নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। আর সেই কারণেই আমরা তুরস্ক সরকারকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, এই বিষয়ে আমাদের কাছে বিবেচনা সাপেক্ষ বৈধ তথ্যপ্রমাণ পাঠান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তা গ্রহণ করবে এবং ভালো করে পরীক্ষা করার পর যথাযোগ্য সিদ্ধান্ত নেবে।’

এর আগেও একাধিকবার গুলেনকে দেশে ফেরাতে চাইলেও তা পারেনি এগদোয়ানের সরকার।

১৫ জুলাই ২০১৬ শুক্রবার রাতের ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর একাংশ ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। তবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের আহ্বানে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

অভ্যুত্থানকারী সেনাসদস্যদের সঙ্গে রাজপথে এরদোয়ান সমর্থকদের সংঘর্ষে দু’পক্ষের ২৯০ জন নিহত হন। এর মধ্যে অভ্যুত্থানকারী সেনাসদস্য ১০৪ জন। অন্যরা পুলিশ ও বেসামরিক নাগরিক। আহত হন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ প্রায় তিন হাজার সেনাসদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়েলদ্রিম গতকাল ১৬ জুলাই শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, অভ্যুত্থানচেষ্টার সমাপ্তি ঘটেছে। বিদ্রোহ পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে ২০ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ৩০ জন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর সরকার সশস্ত্র বাহিনী ও বিচার বিভাগে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান চালায়। বরখাস্ত করা হয়েছে ৫ জন জেনারেল ও ২৯ জন কর্নেলকে। অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারী হিসেবে সেনাবাহিনীর তৃতীয় ডিভিশনের কমান্ডার জেনারেল এরদাল ওজতুর্ককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এরদোয়ানের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০০৩ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছে। তবে ইসলামপন্থী নানা উদ্যোগের ফলে তিনি দেশটির সেনাবাহিনীর একাংশসহ ধর্মনিরপেক্ষ গোষ্ঠীর বিরাগভাজন হয়েছেন।

শুক্রবার রাতে রাজধানী আঙ্কারা ও প্রধান শহর ইস্তানবুলে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সরকারের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর একাংশ ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার নিয়ে অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালায়। এরদোয়ান তখন ছিলেন রাজধানী থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে।

অভ্যুত্থানকারী সেনাসদস্যরা আঙ্কারা ও ইস্তানবুলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। তারা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টিআরটি দখল করে সেখান থেকে ‘গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার’ লক্ষ্যে সামরিক অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া সামরিক আইন ও সান্ধ্য আইন জারি করেন। জনগণকে ঘরে থাকতে আহ্বান জানান এবং পুরো পরিস্থিতি তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করেন।

অভ্যুত্থানচেষ্টা চলার সময় যুদ্ধবিমান থেকে পার্লামেন্ট ভবনে কয়েক দফায় বোমা হামলা চালানো হয়। আঙ্কারায় পুলিশ সদর দফতরে বোমাবর্ষণ করা হলে ১৭ জন পুলিশ সদস্য মারা যান। ইস্তানবুলের বসফরাস প্রণালির ওপর একটি সেতুতে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন বিদ্রোহী সেনাসদস্যরা। ইস্তানবুলের বিমানবন্দরও দখলে নেন তাঁরা। সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।

এর মধ্যে ইস্তানবুলের তাকসিম স্কয়ারে জড়ো হওয়া জনতার ওপর কয়েক দফায় গুলি ও বোমাবর্ষণ করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম কার্যালয়ে গিয়ে সম্প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন অভ্যুত্থানকারীরা। বিভিন্ন এলাকায় এই সেনারা অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। প্রতিবেশী বুলগেরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সেনা অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টায় পরিস্থিতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে মনে হচ্ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইয়েলদ্রিম দাবি করেন, কিছু সেনাসদস্য অভ্যুত্থানের চেষ্টা করছেন, তবে পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে।

অভ্যুত্থানচেষ্টা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সিএনএনের তুর্কি ভাষার চ্যানেলে যোগাযোগ করেন। এ সময় তিনি নিজের মুঠোফোনের ফেসটাইটম অ্যাপের মাধ্যমে চ্যানেলে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান। এতে তিনি জনগণকে রাস্তায় নেমে ‘গণতন্ত্রবিরোধী অভ্যুত্থান’ প্রতিরোধ করার আহ্বান জানান। এরদোয়ান বলেন, অভ্যুত্থানকারীদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে। দেশের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতেই আছে।

রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান

এরপর থেকেই দাবার ঘুঁটি উল্টে যেতে থাকে। সাধারণ মানুষ ও এরদোয়ানের দলের সদস্য ও সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে আসতে থাকেন। তাঁরা দেশের জাতীয় পতাকা হাতে সেনাবাহিনীর ট্যাংকের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। বিভিন্ন স্থাপনায় জাতীয় পতাকা টাঙিয়ে দেন। প্রথম দিকে সেনাসদস্যরা জনতার দিকে অস্ত্র তাক করেন এবং ফাঁকা গুলি ছোড়েন। তবে জনতার প্রতিরোধের মুখে তাঁরা পিছু হটতে থাকেন। বিভিন্ন জায়গায় জনতার সহায়তায় অভ্যুত্থানকারী সেনাসদস্যদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় কয়েক স্থানে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের ওপর উঠে অভ্যুত্থানকারীদের মারধর করে জনতা।

ইস্তানবুল ও আঙ্কারা কিছু কিছু জায়গায় অভ্যুত্থানকারী সেনাসদস্যরা নিজেদের অবস্থান সংহত করার চেষ্টা করলেও তা শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি। আঙ্কারায় অভ্যুত্থানকারীদের হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে সরকারের অনুগত বাহিনী।

পরিস্থিতি যখন প্রায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তখন এরদোয়ান ইস্তানবুলের কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় বিমানবন্দরে অবস্থানকারী সেনাসদস্যদের ঘেরাও করে জনতা। পুরো বিমানবন্দর তখন জনতার নিয়ন্ত্রণে। সেখানে সংবাদ সম্মেলন করে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেন এবং তাঁর অনুগত সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের অভ্যুত্থানের জন্য দায়ী করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, এ ধরনের অভ্যুত্থান জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। অভ্যুত্থানকারীদের চড়া মূল্য দিতে হবে।

ইস্তানবুলে দেওয়া এক বক্তব্যে ফেতুল্লা গুলেনকে তুরস্কে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান এরদোয়ান। তবে ফেতুল্লা গুলেন অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলেন তিনি অভ্যুত্থানচেষ্টার সঙ্গে তাঁকে জড়ানোর তীব্র নিন্দা জানান। এই অভ্যুত্থানচেষ্টা ‘সাজানো নাটক’ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দৃশ্যত বেশিরভাগ জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা সরকারের পক্ষে থাকায় পুরো সেনাবাহিনীর সমর্থন পেতে অভ্যুত্থানকারীরা ব্যর্থ হন। অভ্যুত্থানের শুরুতেই সেনাপ্রধান জেনারেল হুলুসি আকারকে বন্দী করা হয়। কিন্তু সবচেয়ে বড় শহর ইস্তানবুলে সেনা কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যরা অভ্যুত্থান সমর্থন করেননি। নৌবাহিনীর প্রধান এবং বিশেষ বাহিনীর প্রধানও এর বিরোধিতা করেন। যুদ্ধবিমান থেকে অভ্যুত্থানকারীদের ওপর বিমান হামলা চালানো হয়। আঙ্কারায় সেনা সদর দপ্তর ঘেরাও করে সেখানে থাকা অভ্যুত্থানকারীদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হয়। এরপর অভ্যুত্থানকারী অনেক সেনা আত্মসমর্পণ করেন। ইস্তানবুলের বসফরাস সেতুর ওপরে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান করা সেনাসদস্যরাও শনিবার সকালে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় ক্ষমতাসীন একে পার্টির সমর্থকসহ সমবেত জনতা উল্লাস করে। সেনাসদস্যদের বেদম পেটায় জনতা।

বসফরাস ব্রিজ এলাকায় অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় যুক্ত সেনাসদস্যদের ওপর চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা।

সেনাপ্রধানের অনুপস্থিতির সময়ে জেনারেল উমিট দুনদারকে ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে দুনদার বলেন, শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ে তখনো উদ্বিগ্ন ছিলেন এরদোয়ান। তাই জনগণ ও নিজ দলের সমর্থকদের রাস্তায় থাকার আহ্বান জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় এরদোয়ান বলেন, ‘অভ্যুত্থানের চেষ্টা যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, আমাদের সারা রাত রাস্তায় থাকতে হবে। কারণ, যেকোনো মুহূর্তে আবার নতুন করে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।’

রবিবার আঙ্কারায় পার্লামেন্টের বিশেষ জরুরি অধিবেশন বসে। এই অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছে তুরস্কের সব বিরোধী রাজনৈতিক দল।

গ্রেফতার ও শুদ্ধি অভিযান:

অভ্যুত্থান পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি ব্যাপক গ্রেফতার ও ‘শুদ্ধি’ অভিযান শুরু করেছে সরকার। গতকাল ২ হাজার ৭৪৫ জন বিচারক ও কৌঁসুলিকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভি। পরে তাঁদের আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়। দেশটির প্রধান প্রশাসনিক আদালত কাউন্সিল অব দ্য স্টেটের ১০ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ১৪০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রাজধানী আঙ্কারায় গতকাল বিমান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।

বিশ্বনেতাদের নিন্দা:

তুরস্কের অভ্যুত্থানচেষ্টার নিন্দা জানিয়ে দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তুরস্কের সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য। তিনি অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন নিরাপত্তা কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডাকেন।

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল অভ্যুত্থানচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তবে অভ্যুত্থানকারীদের সঙ্গে আইনানুযায়ী আচরণ করার জন্য তিনি এরদোয়ানের প্রতি আহ্বান জানান।

যুক্তরাজ্যের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, তুরস্কের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

অভ্যুত্থানচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব ও সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আলী শামখানি বলেছেন, ইরান তুরস্কের নির্বাচিত সরকারের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সব পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

এবারের সেনা অভ্যুত্থানচেষ্টার আগে অন্তত চারবার সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে তুরস্কে। এর মধ্যে ১৯৬০, ১৯৭১ ও ১৯৮০ সালে তিন দফা অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনী সরাসরি ক্ষমতা দখল করেছিল এবং সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে বিভিন্ন ‘প্রস্তাব’ দিয়ে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত ও তাঁর দলকে নিষিদ্ধ করে।

শুক্রবারের অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হলেও তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় রাজপথে এখনও অবস্থান করছেন হাজার হাজার মানুষ। রাজধানী ছাড়া অন্যান্য নগরীতেও এরদোয়ান সরকারের প্রতি সমর্থন জানাতে পথে নেমেছেন অভ্যুত্থানবিরোধী নাগরিকরা।

/এমপি/