দ্য হিন্দু

কাশ্মিরে রক্তপাতের জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ রাজনাথের

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে রক্তপাতের জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, এ ইস্যুতে পাকিস্তানের ইচ্ছা ভারত কখনোই পূরণ হতে দেবে না। এ বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার শিরোনাম করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।

ভারতীয় পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরুতেই কাশ্মির প্রসঙ্গ নিয়ে উত্তাপ ছড়ায় রাজ্যসভায়। একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, সাধারণ শান্তিপ্রিয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তিনি কাশ্মির উপত্যকায় যাবেন। এছাড়া নিরাপত্তারক্ষীদেরকে যতটুকু না হলেই নয়, ঠিক ততটুকুই বলপ্রয়োগ করতে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মির সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের বিশেষ বিমানে দিল্লি এনে চিকিৎসার পূর্ণ দায়িত্ব নিতেও প্রস্তুত বলে জানান রাজনাথ। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারকে কারফিউয়ের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সরবরাহ দিতে বলা হয়েছে।

The Hindu

উল্লেখ্য, হিজবুল মুজাহিদিন নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কাশ্মির পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এ পর্যন্ত সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। আহতদের মধ্যে ৬০০ জনেরও অধিক ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাশ্মিরের চলতি অস্থিরতার রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বিরোধী দলগুলো। বিরোধীরা কাশ্মিরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য সর্বদলীয় বৈঠক ডাকারও দাবি জানিয়েছে।

বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং  ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি কাশ্মিরের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য পাকিস্তানের উস্কানিকে দায়ী করেন।

রাজনাথ সিং বলেন, পাকিস্তান দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আচরণ করছে। কাশ্মিরীরা এদেশেরই মানুষ। তাদের ভুলপথে চালিত করা হচ্ছে। নিজেদের মুসলিমদের ত্রাতা দাবি করা পাকিস্তানের উচিত নয়।

ভারতের সংখ্যালঘুদের সরকারের প্রতি আস্থা রাখা ও ভুলপথে চালিত না হওয়ারও আহ্বান জানান রাজনাথ সিং।

এর আগে রাজ্যসভায় কাশ্মির সম্পর্কে স্বল্পমেয়াদের বিতর্কে অংশগ্রহণ করে কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ সাফ জানিয়ে দেন, জঙ্গি কার্যকলাপ দমনে কেন্দ্র এবং জম্মু ও কাশ্মির সরকারের পাশে রয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু সেখানে নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষের ওপর যে “যথেচ্ছ বলপ্রয়োগ” করা হচ্ছে তা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

কাশ্মিরে চলতি অশান্তির জন্য রাজ্যে পিডিপি’র সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজেপির সরকার গঠন, বিজেপি ও আরএসএস  নেতাদের একাংশের প্ররোচনামূলক মন্তব্য এবং সর্বোপরি পাকিস্তানের ভূমিকাসহ একাধিক কারণের উল্লেখ করেন আজাদ। এই কংগ্রেস নেতার দাবি, পাকিস্তানের ভূমিকাই কাশ্মিরের সব সমস্যার মূল কারণ। একইসঙ্গে তিনি বলেন, বন্দুকের নল বা বুলেট দিয়ে কাশ্মিরকে শাসন করা যাবে না। কাশ্মিরের চলতি পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকেরও দাবি জানান তিনি।

কাশ্মিরের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে স্বীকার করলেও পিডিপি’র সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজেপির সরকার গঠনকে উপত্যকায় হিংসা ছড়ানোর কারণ বলে আজাদ যে দাবি করেছেন তা খারিজ করে দিয়েছেন অরুণ জেটলি।

কাশ্মিরে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা ফেরানোর জন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে জেটলি বলেন, এই সময় দেশের সবার এক সুরে কথা বলা উচিত। সাধারণ মানুষ যাতে দুর্ভোগের মুখে না পড়েন তা নিশ্চিত করতে হবে।

হিজবুল মুজাহিদিন নেতা বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর কাশ্মিরের ব্যাপক আকারে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে। জেটলি তরুণদের বিক্ষোভ-আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কয়েক হাজার মানুষ পুলিশকে আক্রমণ করলে তার পাল্টা ব্যবস্থা তো নেওয়া হবেই। দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সংগ্রাম চলছে। সাধারণ মানুষ জাতীয় স্বার্থে দেশের পাশেই রয়েছেন।

জেটলি বলেছেন, পাকিস্তান কখনওই জম্মু ও কাশ্মিরকে ভারতের অংশ বলে মানতে পারেনি। এজন্য তারা কাশ্মিরকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এটাই কাশ্মিরে হিংসার একমাত্র কারণ। পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মিরের সন্ত্রাসবাদকে মদদ দিয়ে চলেছে।

/এমপি/