জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলে একটি ট্রেনে কুঠার ও ছুরি নিয়ে হামলা করেছে এক আফগান কিশোর শরণার্থী। ট্রেনের মধ্যে চালানো ভয়াবহ এ তাণ্ডবে প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। ১৭ বছরের এক আফগান শরণার্থী কিশোর এ হামলা চালায়। পুলিশের গুলিতে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে জার্মানির বাবারিয়ার বুজবুর্গে এই ঘটনা ঘটে। এ বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ।
এদিকে এ কুঠার হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
আইএসের কথিত সংবাদ সংস্থা আমাক বার্তা সংস্থার মাধ্যমে আরবি ও ইংরেজি ভাষায় ট্রেনে কুঠার হামলার দায় স্বীকার করা হয়। জার্মান কর্তৃপক্ষ হামলার পর জানিয়েছিল, কিশোর নিজ থেকেই জঙ্গিতে পরিণত হন।
বাভারিয়ান স্টেট অপরাধ তদন্ত বিভাগের গোয়েন্দা কর্মকর্তা আলেক্সান্ডার গ্রস জানান, আইএসের দায় স্বীকারের বিষয়ে শুনছেন তারা তবে এ বিষয়টি নিশ্চিত করার মতো মন্তব্য করতে চান না। গ্রস বলেন, শুধু আইএসের দায় স্বীকার করার কারণেই এতে সংগঠনটি জড়িত তা বলা যায় না। এই মুহূর্তে আমরা পরীক্ষা করে দেখছি কী কারণে এমন হামলা চালিয়েছে কিশোরটি।
এর আগে বাভারিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোয়াসিম হারমান এক স্থানীয় জার্মান টেলিভিশন চ্যানেলকে জানিয়েছেন, ওখজেনফ্রুটে ওই কিশোরের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে আইএস-এর পতাকা পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, সোমবার স্থানীয় সময় রাত সোয়া নয়টার দিকে ওই কিশোর ট্রেনে যাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। হামলার পর দক্ষিণ জার্মানির ওয়েজারবুর্গ শহরের হাইডেনজেগফিল্ড রেললাইনে হেলিকপ্টারে করে অভিযান চালায় পুলিশ। হামলার পর ওয়েজারবুর্গ-হাইডেনজেগফিল্ড এবং ওখজেনফ্রুটের রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ট্রেনটি ওয়েজারবুর্গে আসার কিছুক্ষণের মধ্যে কুঠার ও ছুরি নিয়ে এক কিশোর যাত্রীদের ওপর হামলা করে। এক পর্যায়ে হামলাকারী ট্রেন থেকে নেমে পালিয়ে যায়। পুলিশ তাকে ধাওয়া করে এবং পরে পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জার্মানির সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, হামলার সময় ওই কিশোর ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করছিল। হামলায় আহত চারজনের মধ্যে তিনজন গুরুতরভাবে আহত। এর আগে বলা হয়েছিল, হামলাকারীর কুঠারের আঘাতে ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
/এমপি/