ফিলাডেলফিয়ায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে দলীয় প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সিনেটর হিলারিকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেন। কনভেনশনে ৫০টি রাজ্যের সবকটি তার পক্ষে অবস্থান নেয়।
প্রতিনিধিদের ‘রোল কল’ ভোট শেষে দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে হিলারি ক্লিনটনের সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে হিলারি ক্লিনটনকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানান। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল আগের দিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডাসের সমর্থকরা নানা সমালোচনা ও বিদ্রুপ করলেও মঙ্গলবার সবাই তাকে সমর্থন দেয়।
এরআগে ফিলাডেলফিয়াতে দলীয় কনভেনশনে দেওয়া সোমবারের ভাষণে বার্নি স্যার্ন্ডার্স হিলারি ক্লিনটনকে বিজয়ী করতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। স্যান্ডার্স যখন ভাষণ দিতে আসেন তখন প্রচুর করতালিতে তাকে স্বাগত জানানো হচ্ছিলো। তবে তিনি যখন তাদের হিলারিকে সমর্থন জানাতে বলেন তখন সমর্থকদের অনেকে বার্নি লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে ও তার নামে স্লোগান দিতে থাকে। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সম্প্রতি হিলারির বিপরীতে স্যান্ডার্সকে দমিয়ে রাখতে ডেমোক্র্যাট শিবিরের তৎপরতার কথা ফাঁস করে আলোচিত গণমাধ্যম উইকিলিকস। ডেমোক্র্যাট দলের কর্মীদের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ১৯ হাজারেরও বেশি ই-মেইল ফাঁস করেছে তারা। ওই ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, হিলারি ক্লিনটনকে আগে থেকেই বেছে নিয়েছিলেন ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল কমিটির নেতারা। ফাঁস হওয়া ইমেইলগুলোতে ন্যাশনাল কমিটি এবং বার্নি স্যান্ডার্সের মধ্যকার বিভাজন পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠে। সোমবার থেকে ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল কনভেনশন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ কনভেনশনে হিলারি ক্লিটনের আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন গ্রহণের কথা রয়েছে। এমন অবস্থায় ডেমোক্র্যাট শিবিরের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ইমেইলগুলো ফাঁস হওয়ার পর নতুন বিতর্কে পড়েন হিলারি। ইমেইল ফাঁসের পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্যান্ডার্সের সমর্থকরা। আর এর ফলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন কমিটির প্রধান ডেবি ওয়াজেরমেন শুলজ।
উল্লেখ্য, ১৮৭২ সালে প্রথমবারের মতো কোনও নারী প্রার্থী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়েছিলেন। ওই নারী প্রার্থী একটিও ইলেকটোরাল ভোট পাননি। কিন্তু তখনও পর্যন্ত নারীদের ভোটাধিকার ছিল না। ১৯২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নারীরা ভোটাধিকার পায়। যুক্তরাষ্ট্রের ২৪০ বছরের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত যে চল্লিশজন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের সবাই পুরুষ। এমনকি মার্কিন দ্বিদলীয় নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনও দলই নারীদের প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেনি। আর তাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হলেও ইতিহাসের হাতছানি রয়েছে হিলারির সামনে।
/এমপি/