খিজির খান ফিলাডেলফিয়ায় তার ভাষণে বলেছিলেন, ট্রাম্প তার জীবনে কোনও আত্মত্যাগ করেননি। তিনি মার্কিন সংবিধান কখনো পড়ে দেখেছেন কি না, সে ব্যাপারেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এই সময় খিজিরের স্ত্রী গাজালা খান নীরবে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
খিজির খানের বক্তব্যে আঁতে ঘা লেগেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের। গত শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবশ্যই সংবিধান পড়েছি। আমার সম্পর্কে এমন কথা বলার কোনো অধিকার তার নেই।’ তিনি কোনো আত্মত্যাগ করেননি, সে কথা প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিস্তর আত্মত্যাগ করেছি, লাখ লাখ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি।’ তবে তিনি ঠিক কীভাবে আত্মত্যাগ করেছেন, ট্রাম্প তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
খিজির খানের স্ত্রী গাজালা কোনো কথা না বলে নীরবে স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সে কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, হয়তো তাঁকে কথা বলতে দেওয়াই হয়নি। সরাসরি না বললেও ট্রাম্প ইঙ্গিত করেন, মুসলিম পারিবারিক নিয়মে মেয়েদের নীরব থাকাই নিয়ম। কারণ তারা স্বামীর অনুগত।
গত শুক্রবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে গাজালা খান বলেন, নিহত ছেলেকে নিয়ে কোনো কথা বলা তাঁর জন্য কঠিন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের ছবি আছে এমন কোনো কক্ষে আমি প্রবেশ পর্যন্ত করতে পারি না।’
এভাবে স্ত্রীর সমালোচনা করায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দেন খিজির খান। এক টিভি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘একজন নিহত সৈনিকের পরিবারের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, ট্রাম্প তা জানেন না।’
রিপাবলিকান সম্মেলনে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার পুরোনো ভাষণ থেকে কথা চুরি করে ব্যবহার করেছেন, সে কথা উল্লেখ করে খিজির খান বলেন, ‘আমি কারও ভাষণ নকল করিনি।’
খিজির জানান, স্ত্রী গাজালা তাঁকে ভাষণ লিখতে সাহায্য করেন। তিনি ট্রাম্পের তিন স্ত্রী রয়েছে এমন কথা বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু গাজালা নিষেধ করায় তা থেকে বিরত থাকেন। গাজালা তাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের উচিত হবে না ট্রাম্পের মতো নিচে নামা।’
ট্রাম্পের নিন্দা করেছেন একাধিক রিপাবলিকান নেতা। ওয়াইওর গভর্নর জন কেইসিক ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, একজন নিহত বীর সৈনিকের পরিবারের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, ট্রাম্প তা জানেন না। ট্রাম্পকে নিজ দলের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করতে অস্বীকার করেছেন কেইসিক। ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর জেব বুশের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার ট্রাম্পকে ‘অমানবিক’ বলে তার বক্তব্যের নিন্দা করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের একজন মুখপাত্র তাকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য বলে বর্ণনা করেন।
/এমপি/