দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

মুসলিম সেনার পরিবারের সঙ্গে ট্রাম্পের বিবাদের সমালোচনায় ম্যাককেইন

ইরাকে নিহত যুক্তরাষ্ট্রের একজন মুসলিম সেনাসদস্যের পরিবার সম্পর্কে অবজ্ঞাপূর্ণ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খিজির খান তার নিহত ছেলে মার্কিন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হুমায়ূন খানের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেন। সেই ভাষণে তিনি মুসলিম বিরোধিতার জন্য রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন। সেই বক্তব্যের জন্য খিজির খান ও তার স্ত্রী গাজালা খানের নিন্দা করে ব্যাপক পাল্টা সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। নিহত সেনাসদস্যের পিতামাতাকে আক্রমণ করে কথা বলার জন্য ট্রাম্পের সমালোচকদের দলে সর্বশেষ যোগ দিয়েছেন রিপালিকান নেতা ও দলটির সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সিনেটর জন ম্যাককেইন। এ বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

Ny Times

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হুমায়ুন খান ২০০৪ সালে ২৭ বছর বয়সে ইরাকে এক গাড়িবোমা হামলায় নিহত হন। তার পরিবারের প্রতি ট্রাম্পের অবজ্ঞায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সিনেটর জন ম্যাককেইন। তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠদের মানহানি করার জন্য ট্রাম্পকে সীমাহীন অনুমতি দেওয়া হয়নি।”

নিহত ওই সেনার বাবা খিজির খান ফিলাডেলফিয়ায় তার ভাষণে বলেছিলেন, ট্রাম্প তার জীবনে কোনও আত্মত্যাগ করেননি। তিনি মার্কিন সংবিধান কখনো পড়ে দেখেছেন কি না, সে ব্যাপারেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। এই সময় খিজিরের স্ত্রী গাজালা খান নীরবে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

খিজির খানের বক্তব্যে আঁতে ঘা লেগেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের। গত শনিবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবশ্যই সংবিধান পড়েছি। আমার সম্পর্কে এমন কথা বলার কোনো অধিকার তার নেই।’ তিনি কোনো আত্মত্যাগ করেননি, সে কথা প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বিস্তর আত্মত্যাগ করেছি, লাখ লাখ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি।’ তবে তিনি ঠিক কীভাবে আত্মত্যাগ করেছেন, ট্রাম্প তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

খিজির খানের স্ত্রী গাজালা কোনো কথা না বলে নীরবে স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সে কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, হয়তো তাঁকে কথা বলতে দেওয়াই হয়নি। সরাসরি না বললেও ট্রাম্প ইঙ্গিত করেন, মুসলিম পারিবারিক নিয়মে মেয়েদের নীরব থাকাই নিয়ম। কারণ তারা স্বামীর অনুগত।

গত শুক্রবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে গাজালা খান বলেন, নিহত ছেলেকে নিয়ে কোনো কথা বলা তাঁর জন্য কঠিন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের ছবি আছে এমন কোনো কক্ষে আমি প্রবেশ পর্যন্ত করতে পারি না।’

এভাবে স্ত্রীর সমালোচনা করায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দেন খিজির খান। এক টিভি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘একজন নিহত সৈনিকের পরিবারের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, ট্রাম্প তা জানেন না।’

রিপাবলিকান সম্মেলনে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার পুরোনো ভাষণ থেকে কথা চুরি করে ব্যবহার করেছেন, সে কথা উল্লেখ করে খিজির খান বলেন, ‘আমি কারও ভাষণ নকল করিনি।’

খিজির জানান, স্ত্রী গাজালা তাঁকে ভাষণ লিখতে সাহায্য করেন। তিনি ট্রাম্পের তিন স্ত্রী রয়েছে এমন কথা বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু গাজালা নিষেধ করায় তা থেকে বিরত থাকেন। গাজালা তাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের উচিত হবে না ট্রাম্পের মতো নিচে নামা।’

ট্রাম্পের নিন্দা করেছেন একাধিক রিপাবলিকান নেতা। ওয়াইওর গভর্নর জন কেইসিক ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, একজন নিহত বীর সৈনিকের পরিবারের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, ট্রাম্প তা জানেন না। ট্রাম্পকে নিজ দলের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করতে অস্বীকার করেছেন কেইসিক। ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর জেব বুশের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার ট্রাম্পকে ‘অমানবিক’ বলে তার বক্তব্যের নিন্দা করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের একজন মুখপাত্র তাকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার অযোগ্য বলে বর্ণনা করেন।

/এমপি/