দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

এবার রায়ান-ম্যাককেইনকেও প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের


TWP
এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক আলোচনা আর বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার খোদ নিজ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিই অনাস্থা জানালেন রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা স্পিকার পল রায়ান বা সিনেটর ম্যাককেইনকেও প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়টি নিয়ে বুধবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি স্পিকার পদে পল রায়ান বা জন ম্যাককেইনকে সমর্থন দেবেন না। তবে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী পল নেহলেনের প্রচারণার প্রশংসা করেছেন তিনি। চলতি মাসের ৯ তারিখ স্পিকার পদে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থিতা বাছাই করা হবে।  ধারণা করা হচ্ছে, পল নেহলেনকেই সমর্থন দিতে যাচ্ছেন তিনি।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বর্তমান স্পিকার পল রায়ানের প্রার্থিতাকে সমর্থন করছেন না বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পলকে পছন্দ করি। কিন্তু আমাদের দেশটা এখন এক ভয়াবহ সময় পার করছে। আমাদের অনেক শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাকে সমর্থন দেওয়ার জন্য এখনও আমি নিশ্চিত নই।’  একইভাবে ২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থিতা প্রত্যাশী সিনেটর জন ম্যাককেইনকেও ট্রাম্প সমর্থন করছেন না বলে জানিয়েছেন ওই সাক্ষাৎকারে।

সাক্ষাৎকারে স্পিকার প্রার্থিতা প্রত্যাশী ব্যবসায়ী পল নেহলেনের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। নেহলেন আগে থেকেই ট্রাম্পের বিদ্বেষপূর্ণ ও বর্ণবাদী বক্তব্যের পক্ষে নিজের সমর্থন দিয়ে আসছেন। ট্রাম্প এ জন্য নেহলেনকে টুইটারে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।  সবমিলে ট্রাম্প তাকেই স্পিকার হিসেবে চাইতে পারেন বলে ধারণা  করা হচ্ছে।

স্পিকার পদে রিপাবলিকান পার্টির তিন প্রার্থিতা প্রত্যাশীর মধ্যে নেহলেন খুব বেশি পরিচিত মুখ নন। তিনি উইজকনসিসের একজন ব্যবসায়ী, পুঁজিপতি এবং কনসালট্যান্ট। এর আগে তিনি নেপচুন-বেনসনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। জন্ম এবং বেড়ে উঠা ওহিও অঙ্গরাজ্যে হলেও ২০১৪ সাল থেকে তার বর্তমান ঠিকানা উইজকনসিস। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পের নীরব সমর্থন লাভ করার মধ্য দিয়ে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন একই এলাকার আরেক প্রার্থিতা প্রত্যাশী পল রায়ানের দিকে।  নেহলেন তার নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং টুইটারে ক্রমাগত ট্রাম্পকে সমর্থন করে গেছেন এবং মুসলিমদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা এবং সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে বিতর্কিত মত প্রকাশ করেছেন।  আর রায়ানকে  নেহলেন টুইটারে ‘অন্তঃসারশূণ্য বিশ্বায়নবাদী’ বলে রায় দিয়েছেন। তাকে মুক্ত সীমান্ত নীতির জন্য কটাক্ষও করেছেন নেহলেন।

পল ডেভিস রায়ান খুবই প্রভাবশালী রিপাবলিকান। তিনি বর্তমান স্পিকার। ২০১২ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনীত প্রার্থী মিট রমনির রানিংমেট ছিলেন তিনি।

আরেক প্রার্থিতা প্রত্যাশী জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ অ্যারিজোনার সিনেটর জন ম্যাককেইন। তিনি ২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ছিলেন। ১৯৫৮ সালে নেভাল অ্যাকাডেমি থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে তিনি নৌবাহিনীতে যোগ দেন। ম্যাককেইন ভিয়েতনাম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত যুদ্ধবন্দি হিসেবে আটক ছিলেন। ১৯৮১ সালে নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন পদে চাকরিকালীন সময়ে তিনি অবসরে যান এবং অ্যারিজোনায় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

রায়ান এবং ম্যাককেইন দুজনই বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীকে তারা সমর্থন জানিয়েছেন। বিশেষত পল রায়ান প্রথমদিকে তীব্র সমালোচনা করলেও পরবর্তীতে ট্রাম্পের অনেক অবস্থানের সঙ্গে ভিন্নমত সহকারেই তার সমর্থনে সমাবেশে বক্তব্যও রেখেছেন। বলেছেন, ‘এখানে লুকোচুরির কিছু নেই যে, তার সঙ্গে আমার কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। তবে তার সঙ্গে অমিলের চেয়ে মিলের পরিমাণটাই বেশি।’

রায়ানের মুখপাত্র জাক রোডে বলেছেন, ‘বর্তমান স্পিকার রায়ান বা তার কোনও সমর্থক ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন চাননি। আর আমরা আগামী সপ্তাহে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী।’

উল্লেখ্য, দ্বিস্তরবিশিষ্ট মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠতাপূর্ণ নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ-এর স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে চলতি বছরের ৮ নভেম্বর। আর স্পিকার পদে রিপাবলিকান প্রার্থিতা নির্ধারিত হবে আগামী সপ্তাহে। 

/এমপি/