দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

তুরস্কের সঙ্গে ইউরোপের শরণার্থী চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা

TWPসিরিয়ার চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে শরণার্থীর জীবন কাটাচ্ছেন দেশটির অর্ধকোটির বেশি মানুষ। এদের বেশিরভাগেরই ঠাঁই হয়েছে প্রতিবেশি দেশ তুরস্কে। এছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশের দিকেও ছুটছেন অনেকে। ইউরোপমুখী শরণার্থীদের স্রোত ঠেকাতে চলতি বছরের মার্চে তুরস্কের সঙ্গে এক চুক্তিতে আবদ্ধ হয় ইউরোপীয়  ইউনিয়ন। কিন্তু গত ১৫ জুলাই তুরস্কের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়। এর প্রেক্ষিতে তুরস্কের সঙ্গে করা ইউরোপের শরণার্থী চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে বুধবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি তুর্কিদের জন্য ইউরোপে ভিসামুক্ত ভ্রমণের অনুমতি না দেয় তাহলে তুরস্ক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে হওয়া শরণার্থী চুক্তি থেকে তুরস্ক পিছিয়ে আসবে।

১৫ জুলাই-এর ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘটনায় তুরস্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তুরস্কের সহযোগিতার একমাত্র পুরস্কার তুর্কিদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

একটি জার্মান দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, সবকিছু তুর্কি নাগরিকদের ভিসা বাতিলের ওপর নির্ভর করছে। ১৮ মার্চের চুক্তিতে এটাই বলা হয়েছিল।

গত মার্চে ওই চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ চুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তুরস্কের নেতারা। চুক্তি স্বাক্ষরের দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু।

চুক্তির পর তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা উপলদ্ধি করতে পারছি যে, তুরস্ক ও ইইউর ভাগ্য অভিন্ন। তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ অভিন্ন এবং ভবিষ্যৎ অভিন্ন।’

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ব্রাসেলসে ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শুরু হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এক টেলিভিশন ভাষণে ইউরোপীয় নেতাদের কড়া সমালোচনা করেন। এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক যখন ৩০ লাখ শরণার্থীকে দেখভাল করছে, তখন মধ্য ইউরোপের দেশগুলোতে অল্প কিছু অসহায় শরণার্থী ‘লজ্জাজনক’ অবস্থায় রয়েছে। তারা সেখানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। এ অবস্থায় তুরস্ককে কী করতে হবে না হবে, তা নিয়ে জ্ঞান দেওয়ার আগে তাদের উচিত নিজেদের দিকে তাকানো।

এরদোয়ান বলেন, ইউরোপের কয়েকটি দেশ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) মিলিশিয়াদের তুরস্কের বিরুদ্ধে লড়াই করতে মদদ দিচ্ছে। এটা মাইন পাতা মাঠে নৃত্যগীতে মত্ত হওয়ার শামিল।

ইইউ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী দাভুতোগলু সাংবাদিকদের বলেন, তিনি শরণার্থী সংকটকে আর্থিক বিবেচনায় দেখবেন না। এ ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনা অগ্রাধিকার পাবে। তিনি বলেন, তুরস্ককে তারা কিছুতেই শরণার্থীদের ‘কারাগার’ হতে দেবেন না।

/এমপি/