দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

করাচিতে এমকিউএম-এর অফিসে তাণ্ডব

TETনতুন করে চাপের মুখে পড়েছে পাকিস্তানের সিন্ধুভিত্তিক রাজনৈতিক দল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম)। করাচিতে দলটির বিভিন্ন অফিসে তাণ্ডব চালিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনীগুলো। অনেক জায়গায় বুলডোজার দিয়ে অফিসগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার প্রধান শিরোনাম করেছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

এমকিউএম-এর দলীয় পতাকা, পোস্টার এবং দলটির প্রধান আলতাফ হোসেন-এর ছবি নষ্ট করে ফেলা হয়। রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় আলতাফের ছবি।

সম্প্রতি এমকিউএম প্রধান আলতাফ হোসেন-এর এক মন্তব্যের জেরে নতুন করে আলোচনায় আসে সিন্ধুভিত্তিক রাজনৈতিক দল মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম)।

কিছুদিন আগে করাচি প্রেসক্লাবে বিক্ষোভকালে আলতাফ হোসেন সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি পাকিস্তানকে ‘পুরো বিশ্বের জন্য ক্যান্সার’ বলেও স্লোগান দেন বলে অভিযোগ ওঠে। তার বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে হামলার উস্কানি তৈরির অভিযোগও করা হয়। এক পর্যায়ে সোমবার এআরওয়াই-নিউজে হামলা চালায় এমকিউএম কর্মীরা। সে সময় তারা ‘বিতর্কিত’ স্লোগানও দেয়। এরপর এমকিউএম-এর সব অফিস বন্ধ করে দেয় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। রাতেই ফারুক সাত্তার, খাজা ইজহার, আমীর লিয়াকতসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী এমকিউএম নেতা-কর্মীদের আটক করে সামরিক বাহিনী।

দলীয় প্রধান আলতাফ হোসেনের ‘বিতর্কিত’ বক্তব্য এবং সংবাদমাধ্যমে হামলার বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে। রাতভর আটক থাকার পর মঙ্গলবার মুক্তি পান সাত্তার ও অন্যান্য নেতারা। তারপরই দলীয় প্রধান সমগ্র পাকিস্তানের কাছে ক্ষমা চান।

দলীয় মুখপাত্র ওয়াসায় জলিলের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে সেনাপ্রধান রাহীল শরীফ এবং ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) র‍্যাঞ্জারস মেজর-জেনারেল বিলাল আকবরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এমকিউএম প্রধান আলতাফ হোসেন। আলতাফ বলেন, ‘হৃদয়ের গভীর থেকে আমি আমার বক্তব্যের জন্য জেনারেল রাহীল, ডিজি র‍্যাঞ্জারসসহ সমগ্র পাকিস্তানের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলাম বিচারবহির্ভুর আটকের বিষয়ে, আর আমার কর্মীরা অনশন কর্মসূচী চালাচ্ছিল। এমন অবস্থায় আমি ওই মন্তব্য করেছি।’

এমন চাপ মোকাবিলা করেই অবশ্য বুধবার করাচি’র মেয়র নির্বাচিত হন এমকিউএম নেতা ওয়াসিম আখতার। কারাগারে থেকেই নির্বাচনে জয়লাভ করেন তিনি।

/এমপি/