গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দেড় বছরে সৌদি আরবের বিমানবাহিনী ইয়েমেনের বেসামরিক স্থাপনায় তিন হাজারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। এসব বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক স্থাপনার মধ্যে রয়েছে বাজার, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতাল। এমনকি মসজিদেও আঘাত হানে বিমান থেকে ছোড়া গোলা।
একদল গবেষক ‘ইয়েমেন ডাটা প্রজেক্ট’ নামে একটি জরিপ পরিচালনা করেন। এতে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আট হাজার ৬০০ এরও বেশি বিমান হামলার তথ্য পর্যালোচনা করা হয়।
দেড় বছরের সৌদি হামলার তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযানে ৯৪২টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে আবাসিক এলাকায়, ১১৪টি বাজারে, ৩৪টি মসজিদে, ১৪৭টি স্কুল ভবনে, ২৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ৩৭৮টি পরিবহনের ওপর চালানো হয়েছে। প্রতিবেদনে এসব হামলায় কতজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি। এ সময়ে বেসামরিক স্থাপনার পাশাপাশি সৌদি জোট হুতি বিদ্রোহীদের তিন হাজার ৫৭৭টি সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। আর এক হাজার ৮৮২টি হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি স্কুলে ৯ বার এবং একটি বাজারে ২৪ বার হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশগুলো গত ১৮ মাসের মধ্যে পাঁচ মাস সামরিক স্থাপনার চেয়ে বেসামরিক স্থাপনায় বেশি হামলা চালিয়েছে।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনকে ‘মাত্রাতিরিক্ত অতিরঞ্জিত’ বলে বেসামরিক স্থাপনার হামলার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের দমনে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে দেশটিতে অভিযান চালাচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছরে আগস্ট পর্যন্ত এই হামলায় সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। এদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু রয়েছে। জাতিসংঘ একাধিকবার এসব হামলা বন্ধ করার তাগিদ দিলেও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখে সৌদি আরব।
/এএ/