শুক্রবার ওয়াশিংটনে নির্বাচনি প্রচারণায় ট্রাম্প বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। এখন সময় যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও শক্তিশালী ও মহান দেশে পরিণত করতে সবাইকে কাজ করার।’
দীর্ঘদিন ধরেই ওবামার জন্মস্থান নিয়ে মন্তব্য করে আসছিলেন ট্রাম্প। ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে নয় বলেও প্রচার অভিযান চালানো হয়।
সম্প্রতি ওবামার জন্ম নিয়ে বেশ বিতর্ক শুরু হয়। বিষয়টি হোয়াইট হাউস পর্যন্ত গড়ায়। শুক্রবার অবশেষে দীর্ঘ ৫ বছর পর নিজের অবস্থান পাল্টালেন ট্রাম্প।
অবশ্য ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে বিষয়টি স্বীকার করলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারিকে অভিযুক্ত করেছেন, এ বিতর্কিত প্রচারণা শুরু করার জন্য। এ বিতর্কের ইতি টানার কৃতিত্বও দাবি করেন ট্রাম্প।
এর আগে ট্রাম্পের প্রচারণা শিবির থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় যে, ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে বলেই বিশ্বাস করেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তার নির্বাচনি প্রচারণা শিবির জানিয়েছে, ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, ওবামা যুক্তরাষ্ট্রেই জন্ম নিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবারই ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ওবামার জন্মস্থান সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে রাজী হননি। জন্মস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি সঠিক সময়ে এই প্রশ্নের উত্তর দেবো। আমি এখনই এর উত্তর দিতে চাচ্ছি না।’
এর সমালোচনায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন বলেছিলেন, ‘এখনও তিনি (ট্রাম্প) হাওয়াই-এর কথা উল্লেখ করছেন না। এখনও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করছেন না। আর এই লোক হতে চাইছেন আমাদের প্রেসিডেন্ট? তিনি কবে এই নোংরা গোয়ার্তুমি বাদ দেবেন?’
এসব বিতর্কের অবসানের জন্য ট্রাম্প শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা যুক্তরাষ্ট্রেই জন্মগ্রহণ করেছেন।
ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ নির্বাচনি উপদেষ্টা জ্যাসন মিলার বলেন, ‘২০১১ সালে ওবামার জন্ম নিবন্ধনের বিস্তারিত তথ্য পান ট্রাম্প। আর এরপর থেকে ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, ওবামার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে।’
উল্লেখ্য, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন নাগরিক ওবামা ইতোমধ্যে তার জন্ম নিবন্ধনের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করেছেন। তাতে উল্লেখ করা হয়, ওবামা হাওয়াই দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
/এএ/