দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে চলেছে ইসরায়েল: কেরি

নিউ ইয়র্ক টাইমসইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছেন বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। বুধবার এক ভাষণে কেরি এ অভিযোগ করেন। এর আগে কোনও মার্কিন কূটনীতিক তাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ ও শক্তিশালী মিত্র ইসরায়েলকে এভাবে সমালোচনা করেননি। বৃহস্পতিবার অন্যতম মার্কিন দৈনিক পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস খবরটি প্রধান শিরোনাম প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের চার বছর শেষ হওয়ার মাত্র ২৩ দিন আগে ইসরায়েলের এমন সমালোচনা করলেন কেরি। দায়িত্ব পালনে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আনার জন্য কাজ করে গেছেন তিনি। কেরির অভিযোগ, ইসরায়েল সরকার দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি অগ্রাহ্য করে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কয়েক দশকের সংঘাত মিটিয়ে শান্তির আশাবাদ নস্যাৎ করছে।

ভাষণে শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের নিন্দা জানিয়ে পাস হওয়া প্রস্তাবে ভেটো না দেওয়ার কারণ হিসেবে ইসরায়েলকে রক্ষা করার কথা জানান কেরি। তিনি বলেন, সরকারের চরমপন্থীদের হাত থেকে ইসরায়েলকে রক্ষার জন্যই ভেটো দেওয়া থেকে বিরত থাকে যুক্তরাষ্ট্র। এ অবস্থা চলতে থাকলে একটি দেশই থাকবে এবং তা দখল চালিয়ে যাবে।

কেরি বলেন, অনেকেই মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব মানে হলো বন্ধুর যে কোনও নীতি মেনে নেওয়া। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজের লাভ, অবস্থান ও নীতি ভঙ্গ হলেও। এমনকি বার বার ওই নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানানোর পরও তা মেনে নিতে হবে। বন্ধুদের একে অপরকে একেবারে সত্য কথা বলতে হয় এবং বন্ধুত্বের জন্য দরকার পারষ্পরিক শ্রদ্ধা।

কেরির ভাষণের কয়েক মিনিট পরেই এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি কেরির ভাষণকে ইসরায়েলবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ওই বক্তব্য ছিল ভারসাম্যহীন এবং মাত্রাতিরিক্তভাবে ইসরায়েলি বসতিকেন্দ্রিক।’ তিনি আরও বলেন, কেরি তার ভাষণে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসী অভিযানের পক্ষে অবিরাম বলে গেছেন।

গত শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণকে অবৈধ ঘোষণা করে একটি প্রস্তাব পাশ করে। ১৫ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাশ হওয়া ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ‘১৯৬৭ সাল থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল যে বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে, তার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।’ নিরাপত্তা পরিষদের ১৪টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলে তা পাশ হয়। ভোট দান থেকে বিরত থাকে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে অতীতে তারা ইসরায়েলবিরোধী প্রস্তাবগুলোতে ভেটো দিত।

ওই প্রস্তাব পাশের পর থেকে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে তিক্ততা বাড়ে ইসরায়েলের। প্রস্তাবে ভেটো না দেওয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ওবামা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ করেন। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, ওবামা প্রশাসনই ওই প্রস্তাব তৈরি করেছিল।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েল ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের একটা বড় অংশ দখল করে নেয়। পরে আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলের সীমানা নির্ধারণ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে পূর্ব জেরুজালেম, গাজা ও পশ্চিম তীরের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অন্তত ১৯৭টি সেটেলার বসতি রয়েছে, যেখানে বাস করছেন প্রায় ৬ লাখ ইসরায়েলি। ওইসব স্থান থেকে প্রায় ২৬ লাখ ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করা হয়।

/এএ/