বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন কর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিকল্পনায় সুফল পাবে মূলত উচ্চ আয়কারী ও ধনী ব্যবসায়ীরা। কারণ এই পরিকল্পনায় বড় একটি ফাঁক রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার আইনের অধ্যাপক এডওয়ার্ড ডি. ক্লেইনবার্ড বলেন, নতুন পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে সুফল পাবেন ধনীরা।
আর অ্যাফোরডেবল কেয়ার অ্যাক্ট-এ বড় ধরনের বিনিয়োগাকারীদের ওপর ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কর আরোপের ফলে নিম্ন আয়ের আমেরিকানদের স্বাস্থ্যসেবায় প্রভাব ফেলবে।
ট্রাম্পের এই কর পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে অর্থের প্রাক্কলন এখনও করা হয়নি। ফলে জানা যাচ্ছে না, ঠিক কিভাবে এই কর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।
ট্রাম্পের কর পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদরা জানান, এস্টেট কর ও ন্যূনতম কর আরোপের ঘটনাটি ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি সাধারণ মার্কিন নারী ও পুরুষদের কথা বলতেন, তাদের স্বার্থ রক্ষার কথা বলতেন। অথচ কর পরিকল্পনায় ধনীদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটনের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের অর্থনীতিবিদ উইলিয়াম জি. গেল জানান, প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় দেশটির সর্বোচ্চ করদাতাদের ১ শতাংশই লাভবান হবেন।
ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হচ্ছে শনিবার। এই ক্ষণটি স্মরণীয় করে রাখতেই বুধবার ট্রাম্পের কর সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুসারে করপোরেট কর কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে সাত ধরনের করহার কমিয়ে ১০, ২৫ ও ৩৫ শতাংশ— এ তিন ধরনের করহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বিদ্যমান ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ করহার থেকে কম। কর সংস্কার প্রস্তাব প্রসঙ্গে বুধবার হোয়াইট হাউজ থেকে ট্রাম্প বলেন, এটি একটি দুর্দান্ত পরিকল্পনা, যা বহু মানুষকে কাজে ফিরিয়ে আনবে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় এস্টেট কর বাদ দেয়া হয়েছে। কর আইন অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত নগদ অর্থ ও রিয়েল এস্টেটসহ সম্পত্তির জন্য উত্তরাধিকারীদের কর দিতে হয়। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় অধিকাংশ কর হ্রাস সীমিত করা হলেও, এটি আমেরিকানদের গৃহস্থালি আয়কে আরও বেশি করযোগ্য করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
/এএ/