আরব টাইমস

শর্ত প্রত্যাখ্যান করলেও আলোচনায় রাজি কাতার

আরব টাইমসকূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে সৌদি আরবসহ চার দেশ থেকে দেওয়া কাতারের উপর শর্ত না মানার জন্যই তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি। রবিবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক আরব টাইমস খবরটি শিরোনাম প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করেছে।

কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতালির রোমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, এই দাবিগুলো সন্ত্রাসবাদ দমনে নয়, বরং কাতারের সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন করা। তবে কাতার এখনও আলোচনা করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।

৫ জুন সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিসরসহ ৬ দেশ। এরপর সম্পর্ক পুনর্গঠনে কাতারকে ১৩টি শর্ত দেয় ৪ দেশ। জবাব দেওয়ার জন্য বেঁধে দেওয়া হয় ১০ দিনের সময়।  রবিবার শেষ হচ্ছে এই বেঁধে দেওয়া সময়।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘এই শর্তগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন আমরা গ্রহণ বা আলোচনা না করতে পারি। যৌক্তিক দাবি নিয়ে তারা আলোচনা করতে রাজি আছেন।

সৌদি জোটের ১৩ শর্তে কাতারকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করা একং আল জাজিরা টেলিভিশন বন্ধ করে দিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। এসব শর্ত না মানলে দেশটিকে ‘একঘরে’ করার হুমকি দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনোয়ার গারগাশ। তিনি বলেন,‘এর কোনও বিকল্প নেই। বিকল্প একটাই, বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। কারণ একসঙ্গে কাজ করাটা তখন খুবই কঠিন হবে।

সৌদি জোট জানায় এই শর্ত না মানার কোনও বিকল্প নেই। তবে শেখ মোহাম্মদ তার সিদ্ধান্তে অটল। তিনি বলেন, আমাদের অবস্থানে থেকে এই দাবি মানা সম্ভব নয়। প্রথম থেকেই আমরা জানিয়ে আসছি। সার্বভৌমত্বের উপর কোনও আঘাত মেনে  নিবো না আমরা।’

এদিকে, উপসাগরীয় সংকট নিরসনে কাতারের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, কেবল হৃদ্যতাপূর্ণ আলোচনা ও দেশটির ন্যায্য অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানোর মাধ্যমেই চলমান সংকটের সমাধান সম্ভব। শুক্রবার আঙ্কারায় কাতারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালেদ বিন মোহাম্মদ আল আতিয়াহ’র সঙ্গে বৈঠককালে তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফিকরি ইসিক এসব কথা বলেন। 

/এএ/