বেশ কিছুদিন ধরেই স্টিভ ব্যাননের কর্তৃত্ব খর্ব হওয়ার আভাস মিলছিল। মধ্যপন্থী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইং-এর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতম এই ব্যক্তি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হাক্যাবি স্যান্ডার্সের বিবৃতিতে বলা হয়, “হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ জন কেলি ও স্টিভ ব্যানন একমত হয়েছেন যে, শুক্রবারই হবে স্টিভের শেষ কর্মদিবস। তিনি যে দায়িত্ব এতদিন পালন করেছেন, সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা তার মঙ্গল কামনা করি।” প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ জন কেলির সঙ্গে আলোচনা করেই চিফ স্ট্র্যাটেজিস্টের পদ ছাড়তে হয় ব্যাননকে।
সমালোচকরা ব্যাননকে একজন শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী ও ডানপন্থি বর্ণবিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেন। তার বিতর্কিত মার্কিন ডানপন্থী পত্রিকা ব্রেইটবার্ট প্রচলিত বামপন্থী আদর্শ এবং মূল রক্ষণশীল ধারাকে অস্বীকার করে উগ্র ডানপন্থী মতবাদের পক্ষে মতাদর্শ সরবরাহ করে। ব্যানন ব্রাইটবার্ট নিউজ নেটওয়ার্কে যোগ দেওয়ার সময় ব্রাইটবার্টকে ডানপন্থীদের হাফিংটন পোস্ট বানানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত নভেম্বরে নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারণায় ভূমিকা রেখেছে স্টিভ ব্যানন-এর ওয়েবসাইট ব্রাইটবার্ট। নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে প্রচারণায় ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ দর্শনকে একটি আকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ওই সংবাদমাধ্যম। তবে বিভিন্ন সময় সমালোচকরা ব্যাননের বিরুদ্ধে এন্টি সেমেটিক ও শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তোলেন।
এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল- এনএসসি) থেকে প্রধান কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননকে অপসারণ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানা যায়, ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে নতুন করে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হওয়া ম্যাকমাস্টারের জন্যই ব্যাননকে তখন সরে যেতে হয়। এবার তিনি মুখ্য কৌশল প্রণেতার দায়িত্ব হারিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে পুরোপুরি আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের শিকার হলেন।
/এমপি/