দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ দমনের অঙ্গীকার ইরানের

ইরানে চলমান বিক্ষোভের পঞ্চম দিন সোমবার (১ জানুয়ারি) রাতে নতুন করে সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছে। সোমবার বিক্ষোভকারীরা একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালালে তাদের গুলি করা হয়। সব মিলিয়ে ইরানে গত কয়েকদিনের বিক্ষোভ সহিংসতায় ২১ জন নিহত হয়েছে। ইরানের সরকার এই বিক্ষোভ শক্ত হাতে দমন করবে বলে জানিয়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস খবরটি শিরোনাম প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবারের দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস`র প্রথম পাতা

দ্রব্যগুলোর দাম বৃদ্ধি এবং নতুন বছরের বাজেটে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির সরকারি প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ২৮ ডিসেম্বর ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। সরকার বিক্ষোভকে বেআইনি ঘোষণা করে দমনের হুমকির পরও তা তেহরান ও অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক সংকট এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভের সূচনা হলেও এরইমধ্যে তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়েছে। এমনকি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যাচ্ছে। সরকার বেশ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে।

সোমবার কাহেদেরিজান শহরের এক পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। পশ্চিমের শহর কারমানশাহে ট্রাফিক পুলিশ পোস্টে ঘটেছে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ছয় বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। নিহতদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী এক শিশু এবং ২০ বছর বয়সী এক তরুণ রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যাঞ্চলীয় শহর কাহেদেরিজানে বিক্ষোভকারীরা একটি পুলিশ স্টেশনের দখল নেওয়ার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করে নিরাপত্তাবাহিনী। আংশিকভাবে পুড়ে গেছে ওই পুলিশ স্টেশন। ওই ঘটনায় কয়েকজন হতাহত হলেও তার সংখ্যা জানা যায়নি বলে উল্লেখ করে সংবাদ সংস্থাটি।

পশ্চিমের শহর কারমানশাহে বিক্ষোভকারীরা একটি ট্রাফিক পুলিশ পোস্টে আগুন ধরিয়ে দিলেও তাতে কেউ আহত হয়নি বলে জানিয়েছে মেহর সংবাদ সংস্থা।  ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করছে নিরাপত্তা বাহিনী। রবিবার ওই ভিডিওটি তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছেন। সরকার সমর্থকদের পাল্টা শোভাযাত্রাও হয়েছে ইরানের রাজপথে। গত রবিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ভাষণে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, ইরানিদের সমালোচনা আর বিক্ষোভের অধিকার থাকলেও সহিংসতা সহ্য করা হবে না।

এই বিক্ষোভে বিদেশি শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।