দ্য স্টার

মাহাথিরের জয়ে দুই দিনের সাধারণ ছুটি

ড. মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন জোট পাকাতান হারাপান (পিএইচ) মালয়েশিয়ার ১৪তম সাধারণ নির্বাচনে চূড়ান্ত বিজয় লাভ করেছে। নির্বাচনের এ ফলাফলে মাহাথিরের অনুরোধে দুই দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন মালয়েশিয়ার চিফ সেক্রেটারি আলী হামসা। ১০ ও ১১ মে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তিনি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন।

The Star৯ মে’র নির্বাচনে ২২২টি আসনের মধ্যে মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন জোট পাকাতান হারাপান ১২২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য তাদের দরকার ছিল ১১২টি আসন। জয় নিশ্চিত হওয়ার আনন্দে রাস্তায় নেমে আসেন জোটের সমর্থকরা।

ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় ৬০ বছর ধরে মালয়েশিয়ার ক্ষমতায় থাকা বারিসান ন্যাসিওনাল জোটের পরাজয় হলো। আর তাদের পরাজিত করলো জোটের মূল দল উমনো-এরই এক কালের নেতা ও মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশি দিন ধরে (২২ বছর) ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলীয় জোট পাকাতান হারাপান (পিএইচ)। সাবেক সহকর্মী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় তার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিলেন ৯২ বছর বয়সী মাহাথির মোহাম্মদ। তিনি বারিসান ন্যাসিওনাল ছেড়ে যোগ দিয়েছিলেন পাকাতান হারাপান জোটে। এ জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথবারের মতো মালয়েশিয়ায় সরকার গঠনের সুযোগ পেলো পাকাতান হারাপান।

বিজয় নিশ্চিতের পর মাহাথির সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা কোনও প্রতিশোধ নিতে চাই না। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’ নির্বাচনে জয় নিশ্চিত হওয়ার আগেই মাহাথির জানিয়েছিলেন, পাকাতান হারাপানের জয় সুনিশ্চিত। বারিসান ন্যাসিওনাল জোটের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছিলেন, ‘তারা আমাদের কোনওভাবেই পরাজিত করতে পারবে না।’

এবারের নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে বারিসান ন্যাসিওনাল সুবিধা মতো নির্বাচনি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারন করেছে, এমন অভিযোগ উঠেছিল। তাছাড়া মাহাথিরের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটকে নৃতাত্ত্বিক চীনা জনগোষ্ঠীর দল আখ্যা দেওয়ার মতো ‘বিভক্তিমূলক রাজনীতি’ করার অভিযোগও উঠেছিল ক্ষমতাসীন বারিসান ন্যাসিওনালের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে। নির্বাচনি প্রচারণার শেষ মুহূর্তে তিনি কর-টোল মওকুফ এবং রোজার মাসে ছুটি  ঘোষণা করার মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনি প্রচারণায় দেওয়া তার ওই ভাষণ সরাসরি টিভিতে প্রচারিত হলেও, বিরোধী জোটের নেতা মাহাথিরের ভাষণ সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। তার ভাষণ প্রচারিত হয়েছিল ইন্টারনেটে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে।