gfফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বল প্রয়োগের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। অন্যথায় গাজা উপত্যকায় সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক মুখপাত্র রুপার্ট কলভাইল এই আহ্বান জানান। বুধবার এই খবরটিকে প্রধান শিরোনাম করেছে তুরস্কের অন্যতম সংবাদপত্র আনাদোলু পোস্ট।
রুপার্ট কলভাইল বলেন, আমরা গতকাল গাজা উপত্যকায় প্রাণঘাতী ও আতঙ্কজনক সহিংসতার নিন্দা জানাই। ওই সহিংসতায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ছোঁড়া গুলিতে ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ১৩৬০ জন আহত হয়েছে। তিনি জানান, ১৫৫জন আহত ফিলিস্তিনির অবস্থা গুরুতর। বিক্ষোভে শামিল হয়ে প্রাণ হারানোর মধ্যে ছয় শিশুসহ রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরাও। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে আহতদের মধ্যে রয়েছেন দশ সাংবাদিকও।
রুপার্ট কলভাইল বলেন, ‘আহত বিক্ষোভকারীদের গাজা থেকে স্থানান্তর করতে ইসরায়েলে কার্যকরভাবে বাধা দেওয়ার ঘটনাও আমরা প্রত্যক্ষ করছি।’
ইসরায়েলি দখলদারিত্বের প্রতিবাদে নাকবা দিবস পালন ও জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনের প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকেই গাজা উপত্যকার পূর্ব সীমান্তে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি জড়ো হতে থাকে। ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে ১৫ মে নাকবা দিবস পালন করে থাকে ফিলিস্তিনিরা।
বল প্রয়োগের নীতি মানছে না ইসরায়েল
ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে বলে মন্তব্য করেন জাতিসংঘের মুখপাত্র। জাতিসংঘের মতে সোমবার অনেক বিক্ষোভেকারী সীমান্ত বেড়ার কাছে গিয়েছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ও জ্বালানীভর্তি বিস্ফোরক ও পেট্রোল ভেজানো ঘুড়ি উড়িয়েছে। কেউ কেউ সীমান্ত বেড়ার ক্ষতিও করতে চেয়েছে। অন্যরা টায়ার জ্বালিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী টিয়ার গ্যাস, প্লাস্টিক বুলেট ও বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র ব্যবহার করেছে। যার কারণে অনেকেই মারাত্মক আহত ও আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।
রুপার্ট কলভাইল বলেন, আমরা আবারও জোর দিয়ে বলতে চাই প্রানঘাতী বলপ্রয়োগ শেষ পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া যেতে পারে প্রথম নয় এটাকে একমাত্র তখনই অবলম্বন হিসেবে নেওয়া যায় যখন তাৎক্ষনিকভাবে জীবনের ঝুঁকি অথবা মারাত্মক জখমের ঝুঁকি আসে।
কলভাইল বলেন, সীমান্তবেড়ার কাছে আসা, পার হওয়ার চেষ্টা করা বা তার ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করা বা পাথর ও জ্বালানীভর্তি বিস্ফোরক নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকা সুরক্ষিত নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ছোঁড়াকে জীবনের ওপর হুমকি বা মারাত্মক জখমের হুমকি বলে বিবেচনা করা যায় না। সক্রিয় গোলাবারুদ ব্যবহারের জন্যও তা যথেষ্ট বলে বিবেচিত হতে পারে না।
তিনি বলেন, আমরা গত ৩০ মার্চ থেকে প্রতিটি মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনায় স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত চাই। ৩০ মার্চ থেকে এই পর্যন্ত ১৪ শিশুসহ ১১২ ফিলিস্তিনি সীমান্ত বেড়ার কাছে প্রাণ হারিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে।
কলভাইল বলেন, ‘আজ সেখানে যা ঘটতে পারে তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন- দুই পক্ষের জন্যই আবেগঘন দিন-এমনকি সামনের সপ্তাহও। আমরা সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধারণের আহ্বান জানাই। যা হয়েছে তা যথেষ্ট হয়েছে।’