আনাদোলু পোস্ট

শিগগিরই রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পাবে তুরস্ক

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান বলেছেন, শিগগিরই রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হাত পাবে আঙ্কারা। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে শনিবার শিরোনাম করেছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু পোস্ট।

Anadoluউত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বালিকেসিরে নন কমিশনড কর্মকর্তাদের গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে এরদোয়ান বলেন, রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের দরকার আর শিগগিরই আমরা তা পেয়ে যাবো।

এরদোয়ান বলেন, অন্যরা নিজেদের এজেন্ডা অনুযায়ী ও স্বার্থ মোতাবেক আমাদের দেশ ও এই অঞ্চলকে আকৃতি দিতে চায়। কিন্তু তুরস্ক নিজের স্বার্থ অর্জন করতে চায়। সেজন্য আঙ্কারা নিজের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোনও অনুতাপ নেই।

গত বছরের ডিসেম্বরে তুরস্ক ঘোষণা দেয়, ২০২০ সাল নাগাদ রাশিয়ার কাছ থেকে দুটি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরেছে তারা। এই বছরের এপ্রিলে দুই দেশ শিগগিরই তা হস্তান্তর করতে সম্মত হয়।

রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০। দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে এটি ব্যবহার করা হয়। ব্যালেস্টিক ও ক্রুস ক্ষেপণাস্ত্রসহ তিন ধরণের ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যভেদের আগেই নিষ্ক্রিয় করতে পারে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

গত জুনে তুরস্ক মার্কিন সিনেটে পাশ হওয়া বিলে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়। ওই সময়ে বলা হয়, তুরস্ক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনছে আর তাদের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থাকলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। এছাড়া ওই সময়ে তুরস্কে আটক এক মার্কিন ধর্মযাজককে নিয়ে উত্তেজনা চলছিল।

ওই সময়ে এরদোয়ান বলেছিলেন, মার্কিন যাজক অ্যান্ড্রু ব্রানসনের মামলার জেরে তুরস্কের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ব্রানসনের ঘটনার জেরে বর্তমানে তুরস্কের কয়েকটি পণ্যের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। তুরস্কের আদালতের আদেশে বর্তমানে গৃহবন্দি রয়েছেন ব্রানসন। ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে এরদোয়ান বলেছিলেন ব্রানসনের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরতর ফেতুল্লাহ গুলেনকে ফেরত চায় তুরস্ক। ২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার ক্রীড়নক বিবেচনা করা হয় তাকে।