তুরস্কে অবস্থিত সৌদি আরবের কনস্যুলেট ভবনে হত্যার শিকার সৌদি আরবের নাগরিক ও প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগির মতো সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করতে তাদের পেছেন নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ইন্টারনেট ট্রোল। এদের কাজ ছিল নিয়মিত সৌদি আরবের সমালোচনাকারীদের টুইটার অ্যাকাউন্টে হয়রানিমূলক বার্তা লেখা। এদের হয়রানি এতটাই প্রবল ছিল, যে খাশোগির মতো অভিজ্ঞ সাংবাদিকের পক্ষেও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো না। পরবর্তীতে এসব ট্রোলদের পাল্টা জবাব দিতে ‘ইলেক্ট্রনিক বিজ’ (মৌমাছি) নামের স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল গঠনের চেষ্টা করছিলেন খাশোগি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ২১ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মুদ্রিত সংখ্যার প্রধান শিরোনাম করেছে, ‘সৌদিস ডেপ্লয় আ সোয়ার্ম অফ অনলাইন ট্রোলস টু স্টিফল ক্রিটিকস লাইক খাশোগি।’
খাশোগির ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু ম্যাগি মিচেল সালেম। গত ১৫ বছর ধরে তিনি চেনেন খাশোগিকে। তার ভাষ্য, প্রতিদিন সকালে উঠে টুইটারে সৌদি আরবের নিয়োগ দেওয়া ট্রোলদের হয়রানিমূলক বার্তা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠতেন জামাল খাশোগি। এমনও হয়েছে যে বন্ধুরা তার মানসিক অবস্থার বিষয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে যোগাযোগ শুরু করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, খাশোগিকে এভাবে কণ্ঠরোধে করার চেষ্টার বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। সৌদি আরববের এর জন্য বিশেষ বাহিনীই রয়েছে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও তার ঘনিষ্ঠ সহচরদের নির্দেশনায় সমালোচকদের বিরুদ্ধে এদেরকে কাজে লাগানো হতো। আর এদের ডেরা ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেই।
এখানেই শেষ নয়। এসব ট্রোলদের সহায়তার সঙ্গে জড়িত ছিল খোদ টুইটারেরই একজন কর্মকর্তা। সে সৌদিবিরোধী টুইটার অ্যাকাউন্টের তথ্য সরবরাহ করত যাতে তাদের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালাতে পারে সৌদি আরবের নিয়োগ করা ট্রোলরা। এই সৌদি ট্রোল বাহিনীর তৎপরতার মূল নিয়ন্ত্রণ ছিল যার হাতে, তাকে খাশোগির হত্যা জড়িত থাকার অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার নাম সৌদ আল কাতানি। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠদের একজন তিনি।
ইন্টারনেটে সৌদি আরবের ভিন্ন মত দমনের প্রচেষ্টার স্বরূপ সন্ধানে নিউ ইয়র্ক টাইমস কথা বলেছে সাত জন ব্যক্তির সঙ্গে। এদের মধ্যে রয়েছেন তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, তাদের কার্যক্রম নজরদারির মধ্যে রাখা ব্যক্তি, মার্কিন কর্মকর্তা ও সৌদি সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি। নিউ ইয়র্ক টাইমস নিজেও টুইটারে পাঠানো হয়রানিমূলক বার্তাগুলো দেখেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অনলাইনে সৌদি আরবের টুইটার ট্রোলদের হয়রানির জবাবে জামাল খাশোগি ও অন্যান্য ভিন্নমতাবলম্বীরা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিলেন। কানাডায় বসবাসকারী সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী ওমর আব্দুল আজিজকে খাশোগি পাঁচ হাজার ডলার পাঠিয়েছিলেন। তারা স্বচ্ছাসেবকদের একটি দল গড়ে তুলতে চাইছিলেন। এদের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ইলেক্ট্রনিক বিজ।’ হত্যার শিকার হওয়ার এগারো দিন আগে খাশোগি টুইটারে লিখেছিলেন, ‘ইলেক্ট্রনিক বিরা আসছে।’