আইন লঙ্ঘন করে নেপালের নাগরিকেরা সুইস ব্যাংকগুলোতে ৩৫৮০ কোটি রুপি জমা করেছে। ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের বছর ব্যাপী এক তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার এই খবরটিকে প্রধান শিরোনাম করেছে দেশটির শীর্ষ সংবাদমাধ্যম দ্য হিমালয়ান।
‘নেপাল ফাঁস ২০১৯: অবৈধ সম্পদ পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সুইস ব্যাংকে জমা টাকা থেকে অ্যাকাউন্ট মালিকরা ৭৭ কোটি ৪১ লাখ রুপি সুদ আয় করেছে। তদন্তে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সাল থেকে নেপালের নাগরিকেরা সুইস ব্যাংকে টাকা রাখা শুরু করে। ওই সময়ে দেশটিতে মাওবাদীদের বিদ্রোহ শুরু হয়।
২০১৭ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে নেপালি নাগরিকেরা সুইস ব্যাংকে এক কোটি ১০ লাখ সুইস ফ্রাংক জমা করে। দশ বছর পর সেখানকার ব্যাংকে নেপালের নাগরিকদের জমার পরিমাণ দাঁড়ায় ২৪ কোটি ৩ লাখ সুইস ফ্রাংক।
মাওবাদী বিদ্রোহ অবসানের পরবর্তী দুই বছর সুইস ব্যাংকে নেপালিদের টাকা রাখার পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে যায় বলে জানানো হয় ওই প্রতিবেদনে। তবে বর্তমানে জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫৮০ কোটি মার্কিন ডলার।
তদন্তে দেখা গেছে, কোনও কোনও বিদেশি নাগরিক নেপালের নাগরিকদের নথি ব্যবহার করে সুইস ব্যাংকে টাকা জমা করেছে। জোহার ইয়াহুদা নামে ৫৩ বছর বয়সী এক ইসরায়েলি নাগরিকের তথ্য প্রকাশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি নেপালের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সুইস ব্যাংকে টাকা জমা করেছে।
ওই যৌথ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের ৫৫ নাগরিক বেশ কয়েকটি দেশে বিনিয়োগ করেছে।