সিরিয়ায় যুদ্ধ বন্ধে শান্তি প্রস্তাব পাশ: ওয়াশিংটন পোস্ট

Syria__Wasington POstগৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ক্ষমতাসীন বাশার আল আসাদের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই সর্বসম্মতভাবে একটি সমাধান প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। শুক্রবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক অধিবেশনে জাতিসংঘের ১৫টি সদস্য দেশের মধ্যে প্রস্তাবের ব্যাপারে বিরল সমঝোতা হয়। প্রস্তাবে ১৮ মাসের মধ্যে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ‘সুষ্ঠু ও বস্তুনিষ্ঠ’ নির্বাচনের আয়োজন করার আহ্বান জানানো হয়। জানুয়ারির শুরু থেকে অস্ত্রবিরতি এবং আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর জন্যও আহ্বান জানানো হয় ওই প্রস্তাবে:

 

  • আইএস এবং আল-নুসরা ফ্রন্টসহ সন্ত্রাসী বলে বিবেচিত সব সংগঠনকে আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া
  • এ ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান বজায় রাখা
  • ছয় মাসের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য এবং অবিভক্ত শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা
  • রাজনৈতিক পরিবর্তন হবে সিরিয়ার নেতৃত্বেই

বাশার আল আসাদের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত না হলেও তার ব্যাপারে পশ্চিমাদের সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে পাস হওয়া প্রস্তাবে। এতে  জানুয়ারির শুরু থেকে অস্ত্রবিরতি এবং আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর জন্য সরকার ও বিদ্রোহীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। যেখানে সরকারপক্ষে অবধারিতভাবেই আসাদের উপস্থিতি থাকবে। এর আগে পশ্চিমাদের অবস্থান ছিলো, আসাদকে রেখে কোন আলোচনা নয়। তবে আসাদের ভবিষ্যত কী হবে তা নির্ধারণ করা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। আসাদ দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছেন উল্লেখ করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার ডাক দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স। তবে আসাদকে ক্ষমতা ছাড়তে বলার পক্ষে নেই রাশিয়া আর চীন।

 

জাতিসংঘের প্রস্তাবে আসাদের ভবিষ্যত কী হতে পারে তার কোন উল্লেখ না থাকলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, আসাদের পদত্যাগকে আলোচনার শর্তের অন্তর্ভূক্ত করায় গৃহযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। যদিও আসাদ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি পুনরুল্লেখ করে, তাকে অবশ্যই সরে যেতে হবে বলে দাবি করেন তিনি। সবশেষে পশ্চিমা শক্তি এবং আরব দেশগুলো মেনে নিয়েছেন যে, আসাদ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারবেন। তবে এরপর তাকে অবশ্যই সরে যেতে হবে।    

 

জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, সিরিয়ায় ৫ বছর ধরে চলমান গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। ঘরহারা হয়েছে আরও লাখ লাখ মানুষ। 

 

/বিএ/