‘সিরিয়ান মালালা’র সঙ্গে মালালা ইউসুফজাই: ডন

মালালা

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী শিক্ষা অধিকার কর্মী মালালা ইউসুফজাই সিরিয়ার স্কুল শিক্ষার্থী মুজন আলমেল্লেহানের সঙ্গে দেখা করেছেন। মঙ্গলবার ১৭ বছর বয়সী মুজন যুক্তরাজ্যে পৌঁছালে দুজনের মধ্যে দেখা হয়।
এর আগে মুজন ও মালালার দেখা হয় জর্ডানের এক শরণার্থী শিবিরে। প্রায় দুই বছরের ব্যবধানে আবারও দেখা হওয়ার পর সিরিয়ার শরণার্থী শিশুদের মধ্যে শিক্ষার প্রচার চালাবেন বলে অঙ্গীকার করেন এই দুই কিশোর মানবাধিকারকর্মী।
মুজন বলেন, ‘আমরা সবসময়ই একসঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি। এখন থেকে তা পারব।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এমন দিন আসবে যখন তার দেশে কোন যুদ্ধ বিগ্রহ থাকবে না। সিরিয়াকে নতুন করে গড়ে তুলতে হলে শরণার্থী শিবিরের হাজার হাজার শিশুকে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে রাখলে চলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে মালালা বলেন, তিনি জর্ডানে কয়েকটি স্কুলে পড়া মেয়ের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। মালালা জানান, এদের একজন তাকে বলেছিলেন, ‘তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে আমাদের খুবই ভালো লাগছে, কিন্তু তুমি নও, শিক্ষার বিষয়ে আমাকে আগ্রহী করেছে মুজন।’      
মালালা ইউসুফজাই পাকিস্তানে তালেবানদের গুলির আঘাত মাথায় নিয়েও বেঁচে ফিরে আসার পর পাকিস্তানে নারী শিক্ষার প্রচারে ব্রতী হন। নারী শিক্ষায় অবদান রাখার জন্য ২০১৪ সালে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। তিনিই এ যাবতকালে সবচেয়ে অল্পবয়সী নোবেল বিজয়ী। এ ছাড়াও টাইম ম্যাগাজিনের ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের জরিপে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ জনের তালিকায় আসেন তিনি।  
এদিকে মুজন সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরে থেকেও নারী শিক্ষার প্রসারের চেষ্টা চালান। কন্যাশিশুদের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার বদলে পিতামাতাদের প্রতি তাদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার আহবান জানান মুজন। মুজনই শরণার্থী শিবির থেকে ব্রিটেনে আসা প্রথম সিরিয়ান। তিনি ‘সিরিয়ান মালালা’ বলেও পরিচিত। সূত্রঃ ডন, বিবিসি

/ইউআর/বিএ/