ইরানে জিম্মি মার্কিনিরা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন: নিউ ইয়র্ক টাইমস

nonameজিম্মি অবস্থায় ৪৪৪ দিন ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হলো ১৯৭৯ সালে ইরানের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অপহৃত মার্কিন নাগরিকদের। গত শুক্রবার পাস হওয়া এক আইনে জিম্মি হওয়া ৫৩ জন মার্কিন নাগরিক ৪৪ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন। এছাড়া অপর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলায় আহতরাও এই আইনে সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর ইরানের তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে হামলা চালিয়ে এসব মার্কিন নাগরিকদের জিম্মি করা হয়। ১৯৮১ সালের ২০ জানুয়ারি ৫২ জন জিম্মি মুক্তি পান। অপর জিম্মি অসুস্থ হয়ে পড়ায় আগেই মুক্তি দেওয়া হয়। জিম্মিদের অনেকেই শারিরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। অনেকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
ওই সময় দূতাবাসের নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্ব পালনে ছিলেন মেরিন সার্জেন্ট রডনি সিকম্যান। ক্ষতিপূরণের বিলটি পাস হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা বিলে স্বাক্ষর করার আগে ক্ষতিপূরণের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩৬ বছর এক মাস ও ১৪ দিন।
জিম্মিদের ক্ষতিপূরণের আবেদন এ পর্যন্ত আদালতে এসে আটকে ছিল। সুপ্রিম কোর্টের অস্বীকৃতির কারণে কংগ্রেস ক্ষতিপূরণের বিলটি পাস করতে পারছিল না। কিন্তু এ বছর প্যারিসভিত্তিক বিএনপি প্যারিবাস ব্যাংক ইরান, সুদান ও কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ৯ বিলিয়ন ডলার জরিমানা দেয়। এ জরিমানার কিছু টাকা দিয়েই জিম্মিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস।

তবে এখনও স্পষ্ট নয় সব জিম্মি ও তাদের পরিবার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পাবে কিনা। কংগ্রেস ৪৪ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ অনুমোদন করেছে। আইন অনুসারে  জীবিত ৩৭ জিম্মি থাকা প্রতিটি দিনের জন্য দশ হাজার ডলার করে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা। জিম্মিদের স্ত্রী ও সন্তানদের ছয় লাখ ডলার করে দেওয়া হতে পারে।

অবশ্য আইনি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আটকে থাকায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন কয়েকজন জিম্মির পরিবারের সদস্যরা।

/এএ/