মোদির অকস্মাৎ পাকিস্তান সফর এখন ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিসরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। একে মোদির ‘জন্মদিন কূটনীতি’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিপুল আলোচনা-সমোলোচনা চলতে থাকলেও আগ বাড়িয়ে তিনি যে পাকিস্তানে যাননি, সেই খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া। ওই সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ডাকে সাড়া দিতেই সেদেশে গিয়েছিলেন তিনি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, মস্কো থেকে কাবুলে পৌঁছানোর পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে টেলিফোন করেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। শুভেচ্ছা পাওয়ার পর, শরিফ মোদিকে বলেন, ‘যখন আমার দেশের উপর দিয়েই যাচ্ছেন, তখন কেন এখানে নামবেন না আপনি?’ এই আমন্ত্রণে তৎক্ষণাত সাড়া দেন মোদি।
শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) নওয়াজ শরিফ ৬৬ বছরে পা দেন। সকালেই ফোন করে নওয়াজকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর কথা টুইটারে জানান মোদি। টুইটে মোদি লিখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে কথা বললাম, তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালাম।’ এর এক মিনিট পর মোদির টুইট চমকে দেয় সবাইকে। কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তিনি লাহোর যাওয়ার কথা জানান ওই টুইটে। মোদি লেখেন, ‘আজ (শুক্রবার) বিকালে লাহোরে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দিল্লি ফেরার পথে আমি সেখানে নামব।’
শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৪মিনিটে লাহোরের আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোদির বিমান অবতরণ করে। এসময় বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং।
পরে লাহোর পৌঁছে মোদি হেলিকপ্টারে করে নওয়াজ শরিফের বাড়িতে যান। নওয়াজের বাড়িতে দুই নেতা কিছুক্ষণ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। ভারত ও পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এসময় তারা দুদেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। সংক্ষিপ্ত বৈঠক শেষে নওয়াজ শরিফের নাতির বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে কনেকে আশীর্বাদ জানান। তারপর সাড়ে সাতটার দিকে নওয়াজের বাড়ি থেকে বের হন মোদি। মোদিকে হেলিকপ্টার পর্যন্ত এগিয়ে দেন নওয়াজ শরিফ। হেলিকপ্টারে করে লাহোর বিমানবন্দরে পৌঁছান মোদি। সেখান থেকে নয়া দিল্লির উদ্দেশে রওয়ানা দেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মোদির এটাই প্রথম পাকিস্তান সফর। শুধু তাই নয়, প্রায় একযুগ পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পা রাখলেন পাকিস্তানের মাটিতে। সর্বশেষ প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলনে বৈঠক করেছিলেন মোদি ও নওয়াজ। এরপর থেকেই দুদেশের সম্পর্কের শীতল বরফ গলতে শুরু করে। এরপর দুদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টারা ব্যাংককে বৈঠক করেন। এ মাসের (ডিসেম্বর) শুরুতে পাকিস্তান সফরে যান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সুষমার সফর শেষে দুদেশের পক্ষ থেকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/বিএ/