শিশুটিকেও ছাড়িয়ে গেলো পরিবারের ট্র্যাজেডি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

তুরস্কের উপকূলে নিথর পড়ে থাকা শিশু আয়লান কুর্দি নাম শুনলে এখনও স্তব্ধ হয়ে যান অনেকে। ২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ে ছোট নৌকায় থাকা আয়লান ভেসে যায় তুরস্কের সৈকতে।
আয়লানের পাশাপাশি তার ভাইও ভেসে যায় তুরস্কের সৈকতে। আয়লানের মৃতদেহের ১০০ মিটার দূরে পড়ে ছিল তার ভাই গালিবের মরদেহ। মায়ের মরদেহ পাওয়া গেছে কাছের আরেকটি সৈকতে। এক ছোট্ট আয়লানের না ফেরার দেশে চলে যাওয়াকেও ছাড়িয়ে যায় তার পরিবারের ট্র্যাজেডি।


ভূমধ্যসাগরের তীর থেকে আয়লানের মৃতদেহ উদ্ধার করেন একজন তুর্কি কর্মকর্তা। তবে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের সংঘাত থেকে বাঁচতে আয়লানের জ্ঞাতিভাই একা হাঙ্গেরির একটি বাসে।
ভূমধ্যসাগরের ওই ট্র্যাজেডির জন্য মাঝেমধ্যে নিজেকেই দায়ী করেন আয়লানের বাবা ৩৯ বছরের আবদুল্লাহ। তার শোকার্ত উচ্চারণ, ‘আমার সন্তানেরা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শিশু। ওরা প্রতিদিন আমার ঘুম ভাঙাত। খেলা করত আমার সঙ্গে। এর চেয়ে সুন্দর মুহূর্ত আর কী হতে পারে? এ সবকিছুই হারিয়ে গেছে।’
কিন্তু ভাতিজার মৃত্যুর শোকের মধ্যেই কয়েক সপ্তাহ পর সন্তানদের জীবন বাঁচাতে তাদের নিয়ে রাবারের ভেলায় চড়ে জার্মানির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে আয়লানের ফুপু হিভরুন।
আয়লানের পরিবার সিরিয়ার সংখ্যালঘু কুর্দি সম্প্রদায়ের সদস্য। তবে তাদের অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজনের বসবাস ছিল রাজধানী দামেস্কে। ভালো কুর্দিশ বলতে পারলেও তারা মূলত মূলধারার সিরীয়দের সঙ্গে মিশে যান এবং তারা কোনও বিভেদের মধ্যে যাননি।

সিরিয়ার সরকার, ইসলামিক স্টেট, প্রতিবেশি দেশ আর পশ্চিমের মধ্যকার বিভেদের শিকার হওয়া বহু পরিবারগুলোর একটি আয়লানের পরিবার।

আয়লানের মৃত্যুর ঝাঁকুনিতে থেমে যায়নি ভূমধ্যসাগরে শরণার্থী পরিবারের শিশুদের লাশের মিছিল। বরং সময়ের আবর্তে সেটা আরও লম্বা হয়েছে। আয়লানের ঘটনার পর ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেছে অন্তত শতাধিক শিশুর।

ছোট্ট আয়লানের নিথর দেহের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বড় ধরনের ঝাঁকুনি খায় অভিবাসী-সংকট নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত ইউরোপ। ঘুম ভাঙে বিশ্ববাসীর। সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগের অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আয়লানের ছবিটি অনেকখানি পাল্টে দিয়েছে জনমত। সাম্প্রতিক শরণার্থী সমস্যা নিয়ে ইউরোপের যে নেতারা এত দিন নির্লিপ্ত ছিলেন, তাঁরাও এখন মানবিক উদ্যোগের পথে এগোনোর কথা বলেছেন। চলতি বছর ইউরোপে প্রবেশ করেছে ১০ লাখ শরণার্থী ও অভিবাসন-প্রত্যাশী। এদের অর্ধেকই সিরীয়। সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস।

/এমপি/