ইরানে সৌদি দূতাবাসে আগুন: নিউ ইয়র্ক টাইমস

নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম পাতা
সৌদি আরবে শিয়া নেতা নিমর আল-নিমরের শিরশ্ছেদের প্রতিবাদে ইরানের সৌদি দূতাবাসে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। শনিবার শিয়া নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিয়া ধর্মীয় নেতারা।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার মধ্যরাতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। শিরশ্ছেদের বিষয়ে ‘আক্রমণাত্মক’ ভাষায় বিবৃতি দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের এ বক্তব্যকে ‘সৌদি আরবের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে,তেহরানে সৌদি দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইরানের দায়িত্ব।

শনিবার তেহরানের মাশাদে সৌদি দূতাবাসে হামলা করে বিক্ষুব্ধরা। এ সময় তারা দূতাবাসের আসবাবপত্র ও জানালা ভাঙচুর করে। বিক্ষুব্ধরা একটি কক্ষে আগুন দেয় বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে টেলিফোনে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিক্ষুব্ধরা দূতাবাস লক্ষ্য করে হাতে তৈরি বোমা নিক্ষেপ শুরু করলে তা সহিংস রূপ নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও আগুন নেভায়।
রানের আধাসরকারি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি জানায়, বিক্ষুব্ধরা আল সৌদ পরিবারের মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দেয়। সৌদ পরিবারই সৌদি আরব শাসন করছে। পুলিশ দূতাবাসের ভেতর থেকে প্রতিবাদকারীদের বের করে দিয়েছে। তবে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দূতাবাসের বাইরে অসংখ্য প্রতিবাদকারী অবস্থান নিয়ে আছে।শনিবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে একদিনে ৪৭ জনের শিরশ্ছেদের ঘোষণা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে শিয়া ধর্ম প্রচারক নিমার আল নিমার ও আল-কায়েদা কমান্ডার ফারিস বিন সোয়েইল রয়েছেন।  ফাঁসি কার্যকর হওয়াদের মধ্যে একজন মিসরীয় ও একজন কানাডিয়ান নাগরিকও রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছিলো। অভিযুক্তরা বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও সরকারি ভবনে হামলা ও হামলার পরিকল্পনার সাথে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইরান, ইয়েমেন ও লেবাননের ধর্মীয় নেতা ও কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, নিমর আল-নিমরের শিরশ্ছেদে অত্র অঞ্চলে ব্যাপক আকারে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেই জাবে আনসারী সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, শিয়া নেতা নিমর আল নিমরকে হত্যার জন্য সৌদি আরবকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।
আর ইরানের অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আহমাদ খাতামি বলেছেন, এ শিরশ্ছেদের ফলে সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন পরিবারের পতন হবে। সৌদ পরিবারকে ধর্মদ্রোহী আখ্যা দিয়ে খাতামি আরও বলেন, ‘আমার কোনও সন্দেহ নেই, এই খাঁটি রক্ত সৌদ পরিবারে ধস নামাবে এবং ইতিহাসের পাতা থেকে তাদের সরিয়ে দেবে।’
বাহরাইনে শিরশ্ছেদের প্রতিবাদে বিক্ষোভে পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।  ইয়েমেনের রাজধানী মানামাতে এ বিক্ষোভ করে স্থানীয় জনগণ। লেবাননের সর্বোচ্চ শিয়া কাউন্সিল এটাকে ‘মারাত্মক ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা শিরশ্ছেদকে ‘মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। সৌদি সরকার শেখ নিমরকে হত্যা করেছে।



নিমরের শিরশ্ছেদের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রদায়িক বৈরিতা বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ওই অঞ্চলের নেতাদের প্রতি অস্থিরতা কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জন কিরবি সৌদি সরকারের প্রতি মানবাধিকার রক্ষা ও সম্মান করার এবং স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

/এএ/বিএ/