পুলিশের দাবি, ওই আক্রমণকারীর হাতে একটি কাগজে ইসলামিক স্টেটের পতাকা সম্বলিত একটি কাগজ ছিল যাতে আরবি ভাষায় শারলি এবদো হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, তারা ওই ব্যক্তির হাতের ছাপ শনাক্ত করতে পেরেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তির নাম সাল্লাহ আলি, তিনি ১৯৯৫ সালে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আক্রমণকারীর নাম ঘোষণা করেনি পুলিশ।
প্যারিসের উত্তরাঞ্চলে পুলিশ স্টেশনে ঢুকে পড়ার সময় লোকটির হাতে ছিল কসাইদের ব্যবহৃত একটি ছুরি। তিনি বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ ওই স্টেশনে ঢুকতে চেষ্টা করেন। এক বছর আগে ঠিক এই সময়েই শারলি এবদোর কার্যালয়ে ঢুকে ১২ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। পুলিশ স্টেশনে ঢোকার পথেই তাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারপরও তিনি ছুরি হাতে আক্রমণে উদ্যত হলে পুলিশ গুলি চালায়।
এ প্রসঙ্গে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়।’
আক্রমণকারী ব্যক্তির মৃত্যুর পর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সে সময় ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের হতে ও বারান্দায় আসতে নিষেধ করা হয়। কাছাকাছি দুটো স্কুলে শিশুদের ভেতরে রেখে মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নিহতের পোশাকের ভেতর থেকে একটি তার বের হয়ে থাকলেও তার শরীরে কোন বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে তবে তাতে তার পরিচয় শনাক্ত করার মত কোন তথ্য ছিল না।
এদিকে, এ সপ্তাহেই শারলি এবদো হামলায় নিহত পুলিশ সদস্য ফ্র্যাঙ্ক ব্রিনসোলারোর বিধবা স্ত্রী স্টিফানি শারবোনিয়ার সরকারের প্রতিরক্ষা বিষয়ক ব্যর্থতা উল্লেখ করে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ফ্র্যাঙ্ককে উৎসর্গ করা হয়েছে। সে তার কর্মস্থলের অসামঞ্জস্যগুলো দেখতে পেয়েছিলো, সে বলতো, প্রতিরক্ষায় ফাঁক রয়ে গিয়েছে।’
শারলি এবদো হামলার এক বছর পূর্তিতে কিছু প্রামাণ্যচিত্রতে দাবি করা হয়, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দাবাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নেই। এই দুই বাহিনী পরস্পরকে তথ্য আদানপ্রদান করছে না।
প্রতিরক্ষাবাহিনীর প্রতি এক বক্তৃতায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোঁয়া ওলাঁদেও এ ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশ, গোয়েন্দা, সেনাসহ সকল বাহিনীর একযোগে কাজ করা জরুরি।’
প্রতিরক্ষায় আরও বেশি জোর দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রেসিডেন্ট ওলাঁদ জানান, নিরাপত্তা বর্ধিত করতে পুলিশের শক্তি বাড়ানো হবে। অস্ত্র বহন, তল্লাশি ও অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হবে।
/ইউআর/বিএ/