ব্রিটিশ তদন্তে লিটভিনেনকো হত্যায় পুতিনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসার পরই এ চিঠি দেন নিহতের স্ত্রী ম্যারিনা লিটভিনেনকো। চিঠিতে পুতিনকে খুনি হিসেবে বিবেচনা করে এ বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ক্যামেরনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
ম্যারিনা লিটভিনেনকো বলেন, রাশিয়ার সব গুপ্তচরকে যুক্তরাজ্য থেকে বের করে দিয়ে মস্কোর বিরুদ্ধে যেন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বিশেষ করে অন্তত সুনির্দিষ্ট ১২ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেন যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
সুনির্দিষ্ট এই ১২ জনের মধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, আলেকজান্ডার লিটভিনেনকো’র হত্যাকাণ্ডের সময় রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি-এর প্রধান নিকোলাই পাতরুশেভসহ রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা রয়েছেন। এমনকি রুশ সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের আদালতে মামলা করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার যদি স্যার রবার্ট ওয়েনের প্রতিবেদন উপেক্ষা করে তাহলে সেটা একটা অভাবনীয় ব্যাপার হবে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের এফএসবি’র নির্দেশনায় দুই রুশ গুপ্তচর আলেকজান্ডার লিটভিনেনকো’র গুপ্তহত্যায় অংশ নেন।
২১ জানুয়ারি ২০১৬ আলেকজান্ডার লিটভিনেনকো হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তদন্ত দলের প্রধান স্যার রবার্ট ওয়েন।
৩০০ পৃষ্ঠার ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, হয়তো দীর্ঘদিনের শত্রুতার জেরে সাবেক গোয়েন্দা আলেকজান্ডার লিটভিনেনকো’কে হত্যার বিষয়ে সায় দেন রুশ নেতা। প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তের ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এটা বলা যায়, সম্ভবত আলেকজান্ডার লিটভিনেনকো’কে খুনের জন্য এফএসবি প্রধান নিকোলাই পাতরুশেভ এবং প্রেসিডেন্ট পুতিন এফএসবিকে অভিযান পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছিলেন।
স্যার রবার্ট ওয়েন-এর এই প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়েছেন আলেকজান্ডার লিটভিনেনকো’র স্ত্রী ম্যারিনা লিটভিনেনকো। তবে ব্রিটেনের এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন আখ্যায়িত করে এর কঠোর সমালোচনা করেছে রাশিয়া।
এই হত্যাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত রুশ গুপ্তচর আন্দ্রেই লুগোভোই বলেছেন, এটা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের একটা দুর্বল প্রয়াস যে একটি কঙ্কালকে ব্যবহার করে তারা সুবিধাজনক রাজনৈতিক অবস্থানে পৌঁছাতে চায়।
একটি হোটেলে গ্রিন টি পানের তিন সপ্তাহের মাথায় ২০০৬ সালের ২৩ নভেম্বর লন্ডনের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন আলেকজান্ডার লিটভিনেনকো। ধারণা করা হয় ওই গ্রিন টি’র মাধ্যমে তার শরীরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। মৃত্যুর আগে ১০ বছর ব্রিটেনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন আলেকজান্ডার লিটভিনেনকো। দেশটিতে তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন। সূত্র: গার্ডিয়ান।
/এমপি/বিএ/