দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে ইউরোপ

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রথম পাতাস্থায়ীভাবে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি কমাতে অর্থনৈতিক দুরাবস্থা সত্ত্বেও সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার।  নিরাপত্তা জোরদারে দিনে প্রায় এক মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করছে ফ্রান্স। এদিকে আগামি ১৫ বছর ধরে সামরিক খাতে ১৪১ বিলিয়ন ডলার করে ব্যয়ের প্রস্তাব করেছেন জার্মান মন্ত্রী। নিরাপত্তা জোরদারে আরও বেশি পরিমাণে অর্থ ব্যয় করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্যও।
২০০৭ সাল থেকে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে সামরিক খাতে ব্যয় ১৩ শতাংশেরও বেশি নামিয়ে আনা হয়। গতবছর ন্যাটোভুক্ত চারটি দেশ মোট জিডিপি’র দুই শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় করে। তবে এখন ইউরোপের নেতারা মনে করছেন যে, নিরাপত্তা ব্যয়কে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
গতবছর প্যারিসে আইএসের দুই দফায় হামলার পর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ইস্যুতে সরব হয় ইউরোপ। ২০১০ সালের ঋণ সংকটে কৃচ্ছতার পর নতুন করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সম্প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ বলেছেন, ‘সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা এবং তাদের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেওয়া দরকার। তাদের অর্থায়ন, প্রচারণা ও মৌলবাদ বন্ধ করা প্রয়োজন।’ সন্ত্রাসের সঙ্গে ফ্রান্স যুদ্ধ করছে বলেও উল্লেখ করেন ওঁলাদ।

 

গত নভেম্বরে প্যারিসে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর হামলায় নিহত হন ১৩০ জন। মূলত ওই হামলার পরই ইউরোপের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়তে শুরু করে। ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ-ক্লদ ইয়োঙ্কা নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারে ফ্রান্সকে পরামর্শ দেন। এই প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করে রেখেছে ফ্রান্স। সামরিক সরঞ্জাম, নজরদারি, সেনা ও পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়াচ্ছে ফ্রান্স। চরমপন্থা ঠেকাতে নতুন কর্মসূচির আওতায় কয়েকশ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করছে দেশটি। সিরিয়া থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে প্যারিসে হামলার পরিকল্পনা করেছিল বেলজিয়ামের জঙ্গিরা। জেল ফেরত জঙ্গি, সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধি এবং রাস্তায় কয়েকশ সেনার উপস্থিতির পেছনে প্রায় অর্ধ বিলিয়ন অর্থ ব্যয় করবে দেশটি।

আইফেল টাওয়ারের সামনে সেনারা 

এদিকে অধিক সংখ্যক পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিয়োগ করছে জার্মানি। চলতি মাসেই দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জার্মানির সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন। আগামী ১৫ বছর ধরে সামরিক খাতে ১৪১ বিলিয়ন ডলার করে ব্যয়ের প্রস্তাব করেন জার্মান মন্ত্রী।

নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্যও। সম্প্রতি বোয়িং পি৮ ম্যারিটাইম পেট্রল এয়ারক্রাফট ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি। এতে ব্যয় হবে ১২ বিলিয়ন পাউন্ড। সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যাও বৃদ্ধি করছে ব্রিটেন।

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা বাজেট বিষয়ক বিশ্লেষক ফেনেলা ম্যাক গার্টি বলেন, ২০১৯ সালের মধ্যে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও জার্মানিসহ পশ্চিম ইউরোপের সামরিক ব্যয় অতিরিক্ত ৫০ থেকে ২১৫ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় আমাদের সামরিক ব্যয় কম। সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

/এমপি/বিএ/