চায়না ডেইলি

পুনর্বিন্যাস করা হলো পিএলএ’র কমান্ডিং ব্যবস্থা

nonameচীনের পিপল’স লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) আঞ্চলিক কমান্ড ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। ১৯৮৫ সালের আঞ্চলিক কমান্ডিং ব্যবস্থা বাদ দিয়ে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চীনা সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানের সামর্থ্য বাড়াতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন।
চীনের প্রেসিডেন্ট ও সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের চেয়ারম্যান শি জিনপিং পিএলএ’র  ৫টি নতুন কমান্ডিং এলাকার প্রধানদের হাতে সেনাবাহিনীর পতাকা তুলে দেন। সোমবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে সেনাবাহিনীর হেডকোয়ার্টারে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
নতুন সামরিক কমান্ডিং এলাকাগুলো হচ্ছে- ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড, সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড, ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড, নর্দান থিয়েটার কমান্ড ও সেন্ট্রাল থিয়েটার কমান্ড।
নতুন এই আঞ্চলিক কমান্ডিং এলাকা স্থাপনের মধ্য দিয়ে আগের সাতটি কমান্ডিং এলাকাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আগের সাতটি কমান্ডিং এলাকাগুলোর হেড কোয়ার্টার ছিলো বেইজিং, শেনিয়াং, লানজু, নানজিং, চেঙ্গডু ও গুয়াংজু শহরে।

অনুষ্ঠানে চীনা প্রেসিডেন্ট জানান, নতুন ৫টি থিয়েটার কমান্ড তাদের দায়িত্বাধীন এলাকার কৌশলগত নিরাপত্তা, শান্তি রক্ষা, যুদ্ধ করা ও যুদ্ধ জয়, দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করাসহ জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলের দায়িত্ব পালন করবে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়াং ইয়ুজুন জানান, আঞ্চলিক সামরিক কমান্ড পরিবর্তনের ফলে সেনাবাহিনীর রক্ষণাত্মক কৌশলের কোনও পরিবর্তন হবে না।

তিনি জানান, এ সংস্কারের ফলে যেসব সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর যাতে ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চীনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পিএলএকে ঢেলে সাজাতে শি জিনপিংয়ের উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়ার পর এ পরিবর্তন করা হলো। গত সেপ্টম্বরে শি জিনপিং ঘোষণা দিয়েছিলেন চীন সেনা সংখ্যা কমিয়ে তিন লাখে নামিয়ে আনবে। এর মধ্য দিয়েই পিএলএ-তে সংস্কার শুরু হয়। গত নভেম্বরে সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের প্লেনারি অধিবেশনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আঞ্চলিক সামরিক কমান্ড পুনর্বিন্যাস করার। ডিসেম্বরের শেষ দিকে পিএলএ হেড কোয়ার্টার, পিএলএ রকেট ফোর্স ও পিএলএ স্ট্র্যাটেজিক সাপোর্ট ফোর্স গঠন করা হয়।

গত মাসে পিএলএ’র ৫টি কেন্দ্রীয় বিভাগ- স্টাফ, রাজনীতি, লজিস্টিকস ও সামরিক সরঞ্জাম ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এসব বিভাগকে নতুন ১৫ টি শাখায় সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

পিএলএ’র নেভাল মিলিটারি স্টাডিজ রিসার্চ ইন্সটিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক জ্যাং জুনশি জানান, সাতটি আঞ্চলিক কমান্ড মূলত পদাতিক সেনাদের যুদ্ধের উপযোগী ছিল। নতুন কমান্ডিং ব্যবস্থায় যৌথ অভিযান ও তথ্যের সামর্থ্য বৃদ্ধি করবে।

চীনের আগের সামরিক কমান্ডিং ব্যবস্থা ১৯৮৫ সালে শুরু হয়। ওই সময় চীনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডেং জিয়াওপিং।

/এএ/