মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সম্পর্কে শতবর্ষ আগে দেওয়া বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের ধারণা সত্য ছিল। এর প্রমাণ পেয়েছেন পদার্থবিজ্ঞানীরা। এই প্রমাণ পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের জগতে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েব অভজারভেটরির (এলআইজিও-লাইগো) গবেষকরা এই ঘোষণা দেন।
ব্ল্যাক হোল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করা বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্তের এ ঘটনাকে ইতিহাসের একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “মহাকর্ষীয় তরঙ্গ মহাবিশ্বকে দেখার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন পথ দেখাবে। এই আবিষ্কার বাইনারি সিস্টেম ব্ল্যাক হোলের প্রথম শনাক্ত করার ঘটনা এবং একাধিক ব্ল্যাক হোলের মিশে যাওয়ার প্রথম পর্যবেক্ষণ।”
গবেষকরা বলছেন, সূর্য থেকে প্রায় ৩০ গুণ ভারী দুটি কৃষ্ণ গহ্বরের সংঘর্ষ থেকে উৎপন্ন এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ (গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ) শনাক্ত করা হয়েছে। পৃথিবী থেকে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে ওই দুটি ব্ল্যাক হোল একে অন্যের চারপাশে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে এক পর্যায়ে একসঙ্গে মিশে যায়।
আলোর মতো গ্র্যাভিটি বা মহাকর্ষ তরঙ্গের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পার্থক্য, মহাকর্ষ বিকিরণ আকারে ছড়ায় না, বরং স্থান নিজেই এক্ষেত্রে তরঙ্গায়িত হয়।
কোনো বালতির পানিতে হাত ডুবিয়ে তুললে পানির উপরিতলে যে মৃদু ঢেউ ধীরে ধীরে বালতির গোলাকার দেয়ালের দিকে ছড়িয়ে যায়, এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ স্থানের মধ্যে সে রকম মৃদু ঢেউ তৈরি করে তথা স্থানকে বাঁকিয়ে দেয়। জার্মান বিজ্ঞানী আইনস্টাইন ১৯১৫ সালে আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বে এই ধারণা প্রকাশ করেন।
/এমপি/