সম্পদের প্রাচুর্যতার বিচারে গরিবরা শুধু যে তাদের আয়ই হারাচ্ছে তা নয়, জীবনের কয়েকটি বছরও হারাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭০ সালের দিকে নিম্নে আয়ের একজন মানুষের তুলনায় একই বয়সের উচ্চ আয়ের মানুষ ১ বছর দুই মাস বেশি বাঁচতেন। ২০০১ সালের দিকে এ ব্যবধান এসে দাঁড়ায় ৫ বছর ৮ মাসে।
গত শুক্রবার প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যানে এ পার্থক্য আরও বেড়েছে। মানুষের আয়ের ওপর ভিত্তি করে ব্রুকিংস ইন্সটিটিউশনের পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, ১৯২০ সালে জন্ম নেওয়া উচ্চ বিত্ত ও নিম্ন বিত্তের মানুষের আয়ুষ্কালের পার্থক্য ছিল ছয় বছর। ১৯৫০ সালে জন্ম নেওয়া মানুষের ক্ষেত্রে আয়ুষ্কালের পার্থক্য দ্বিগুনেরও বেশি বেড়ে হয়েছে ১৪ বছর। নারীদের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান ৪ বছর ৭ মাস।
গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, ১৯২০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষের আয়ুষ্কাল বেড়েছে মাত্র তিন শতাংশ। বিপরীতে উচ্চ আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে বেড়েছে তা ২৮ শতাংশ।
গবেষণা দলের সদস্য গ্যারি বার্টলেস জানান, এ পার্থক্য অনেক বাড়ছে।
ধনী-গরিবের আয়ুষ্কালের এ পার্থক্য দেশটির নীতি নির্ধারকদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠেছে। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতা নিয়ে ডেমোক্রেটিকদের বিতর্কেও বিষয়টি ওঠে এসেছে। সিনেটর বার্নি স্যান্ডারস ও হিলারি ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কম আয়ুষ্কাল নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ওবামা প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা পিটার ওরসজাগ জানান, আয়ুষ্কালের বৈষম্য আগামী দিনের বৈষম্যবিষয়ক আলোচনার মূল ক্ষেত্র হয়ে ওঠবে।
আয়ুষ্কালের এই পার্থক্যের কারণগুলো গবেষণায় চিহ্নিত হয়নি। তবে জনস্বাস্থ্য গবেষকরা বলছেন, ধূমপান পরিহার না করা ও শিক্ষার পার্থক্য এ ব্যবধানের ব্যাখ্যা দিতে পারে।