টাইমস অব ইন্ডিয়া

ভারতীয় রাজনীতিকদের দৃষ্টি এখন নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রথম পাতাআফজাল গুরুর ফাঁসিবিরোধী বিক্ষোভ এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ছাত্র নেতা কানহাইয়া কুমারকে গ্রেফতারের ঘটনায় জওহর লাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় এখন ভারতীয় রাজনীতিবিদদের অন্যতম আলোচ্য ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কেউ কেউ ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তা নিষিদ্ধের দাবি জানাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের হয়রানি না করার আহ্বান জানাচ্ছেন। আর সে বিতর্ক নিয়েই প্রধান শিরোনাম করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যান কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধী। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিজেপির ছাত্র শাখা এবিভিপির নেতারা। রাহুল গান্ধী ফিরে যাও বলে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। রাহুল গান্ধী রাষ্ট্রবিরোধীদের সহযোগিতা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। শেষ পর্যন্ত দলীয় কর্মীদের সহায়তায় সভায় যোগ দেন রাহুল। তিনি বলেন, ‘ভারত যে এতো এগিয়ে যাচ্ছে তার কারণ হলো জনগণ তাদের স্বর জোরালো করছে।’
এর পর পরই প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি। দলটির পক্ষ তেকে রাহুলের অবস্থানের সমালোচনা করে বলা হয়, কংগ্রেস নেতা লস্কর ই তৈয়বার জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছেন।

এরইমধ্যে নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার সত্যতা উদঘাটনের জন্য তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এবং আম আদমি পার্টি নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও।

কানহাইয়াকে গ্রেফতারের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের কেন সন্ত্রাসীদের মতো করে ক্যাম্পাস থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। এদিকে ইন্ডিয়া গেটের কাছে পাল্টা বিক্ষোভ করেন এবিভিপি নেতারা।

ভারতের পার্লামেন্টে হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত আফজাল গুরুর ফাঁসি কার্যকরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় কানহাইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে এআইএসএফ নেতা ও ছাত্রসংসদের সভাপতি কানহাইয়া কুমারকে গ্রেফতার করে সাদা পোশাকের পুলিশ। পুরো ক্যাম্পাস ও হলে প্রবেশ করেও ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। বিজেপি পন্থী ছাত্রসংগঠন এবিভিপি ও বিজেপি সাংসদ মহেশ গিরির অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। আর তাতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়।

/এফইউ/