তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, খ্যাতনামা সাবেক রেডিও ও টিভি তারকা জিমি স্যাভিলের বিবিসি’র কর্মজীবনে ৫৭ জন মেয়ে এবং ১৫ জন ছেলে তার যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। আর ওই ৭২ জনের অর্ধেকই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক।
প্রতিবেদনে স্যাভিলকে ‘ক্ষুধার্ত যৌন নিপীড়ক’ বলে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, তিনি যখনই সুযোগ পেয়েছেন বিবিসি’র অফিসে বসেই এসব যৌন নিপীড়ন চালিয়েছেন।
আরেক সাবেক উপস্থাপক স্টুয়ার্ট হলের হাতে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে ২১ জন মেয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এদের মধ্যে একজনের বয়স ছিল ১০ বছর। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে বিবিসিতে জিমি সেভিলের মতো তারকাদের যৌন নির্যাতনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মিডিয়াটির সমালোচনা করা হয়। স্যাভিলের মৃত্যুর পর তার ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের এই চিত্র প্রকাশিত হয়।
তবে এই বিতর্কে টনি ব্ল্যাকবার্ন নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। ১৯৭১ সালে বিবিসি রেডিও-১-এর টপ অব দ্য পপস অনুষ্ঠানের রেকর্ডিংয়ের সময় ১৫ বছর বয়সী ক্ল্যারি ম্যাকঅ্যালপাইনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে তদন্তে জ্যানেট স্মিথ যথাযথ সহযোগিতা না করার অভিযোগ আনেন বিবিসি রেডিও’র প্রথম ডিজে ব্ল্যাকবার্নের বিরুদ্ধে।
বিবিসির মহাপরিচালক টনি হল ব্ল্যাকবার্ন তদন্তদলকে সহযোগিতা করতে না পারার জন্য তাকে দোষারোপ করেন। এর বিপরীতে ব্ল্যাকবার্ন বিবিসিকে সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে তিনি সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন। তার দাবি, বিবিসি তার নিজের ব্যর্থতার জন্য তাকে বলি দিতে চাইছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এসএ/এমপি/