চার বছর আগে প্রথমবার অস্কার জেতেন পাকিস্তানি-কানাডিয়ান নাগরিক শারমিন ওবায়েদ-চিনয়। সে সময় এসিড আক্রান্ত মেয়েদের নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘সেভিং ফেস’ নির্মাণ করে সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে সেরা হন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র ‘অ্যা গার্ল ইন দ্য রিভার: দ্য প্রাইস অব ফরগিভনেস’-এর জন্য অস্কার জিতলেন শারমিন। এ বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার শিরোনাম করেছে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডন।
৮৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে ‘অ্যা গার্ল ইন দ্য রিভার: দ্য প্রাইস অব ফরগিভনেস’ সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এর নির্মাতা শারমিন ওবায়েদ। ‘অনার কিলিং’-এর ওপর ভিত্তি করে এই ডকুমেন্টারিটি তৈরি করা হয়।
পুরস্কার হাতে নিয়ে ৩৭ বছর বয়সী শারমিন বলেন, আমার এ ছবি দেখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এ সপ্তাহে জানিয়েছেন, মেয়েদের জেনেশুনে হত্যা প্রতিরোধে আইন পরিবর্তন করবেন। এটাই এই ছবির শক্তি।
নিজের বক্তব্যে শারমিন তার বাবা কিংবা তার স্বামীর মতো যারা মেয়েদের স্কুলে ও কাজে পাঠায় তাদের মতো সাহসী পুরুষদের প্রশংসা করেন।
ইংরেজি ও পাঞ্জাবি ভাষায় নির্মিত ‘অ্যা গার্ল ইন দ্য রিভার: দ্য প্রাইস অব ফরগিভনেস’ এইচবিও চ্যানেলে প্রিমিয়ার হয় গত বছরের ২৮শে অক্টোবর। ওইদিনই মুক্তি পায় ৪০ মিনিট ব্যাপ্তির ছবিটি।
ছবিটিতে ১৯ বছর বয়সী সাবাকে তুলে ধরা হয়েছে। সে অনার কিলিংয়ের (পরিবারের সম্মানের জন্য হত্যা) শিকার হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যায়। পছন্দের পুরুষকে বিয়ে করার অপরাধে তাকে মারধর ও গুলি করে নদীতে ফেলা দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার মাথা হেলে যায়। এর মানে বুলেট মেয়েটির খুলি উড়িয়ে দেওয়ার বদলে তার গণ্ডদেশে সামান্য আঘাত করেছে কেবল। এ ধরনের হামলার কারণেই মেয়েটি বেঁচে যায়। কিন্তু কেবল বেঁচেই যায় না, সে পুলিশের কাছেও যায়।
/এমপি/