স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাশীদের দলীয় প্রাথমিক বাছাইয়ের অন্যতম ধাপ ‘সুপার টিউসডে’। এদিন ১২টি অঙ্গরাজ্যে একযোগে ভোটাভুটি হবে। এর মধ্যে দক্ষিণের অঙ্গরাজ্যই বেশি। কারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা পেতে যাচ্ছেন,‘সুপার টিউসডে’তে সে সম্পর্কে বেশ খানিকটা ধারণা পাওয়া যায়। সে কারণেই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে সুপার টিউসডে অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই সাউথ ক্যারোলিনা আর নেভাদাতে ট্রাম্পের জয়জয়কার দেখে ডেমোক্র্যাটরা একরকম ধরেই নিয়েছেন যে ট্রাম্পই রিপাবলিকানদের হয়ে প্রার্থিতা পাচ্ছেন। আর সেকারণে ট্রাম্পকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করে নিজেদের নির্বাচনি লড়াইয়ের পরিকল্পনা তৈরি করছেন তারা।
ডেমোক্র্যাটদের অনেকে মনে করেন, ট্রাম্পকে হারানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী হিলারি। তারা বিশ্বাস করেন, অভিবাসী, নারী এবং মুসলিমদের নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্য ট্রাম্পকে অনেক মার্কিনির কাছে অযোগ্য বলে বিবেচিত করবে। তারা এও বিশ্বাস করেন যে, ট্রাম্পকে রিপাবিলাকানদের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হলে কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক এবং নারী ভোটারদের ভোটগুলো হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে আসবে।
আবার কেউ কেউ মনে করেন, ভোটার এবং নির্বাচক মণ্ডলীর মনোভাবের ব্যাপারে ট্রাম্প অবগত আছেন। সুতরাং তাকে হেলাফেলা করা ঠিক হবে না।
হিলারি ক্লিনটনকে সমর্থনকারীরা এরইমধ্যে বিভিন্ন পরীক্ষামূলক বিজ্ঞাপন এবং স্ক্রিপ্ট তৈরির কাজে নেমেছেন যেগুলোতে ট্রাম্পকে নারীবিদ্বেষী এবং শ্রমিকবৈরি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারকা ওবামাও বলেছেন যে ওভাল অফিসের দায়িত্ব সামলানোর মতো সক্ষমতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেই বলে প্রচারণা চালাবেন তিনি।
অনেক ডেমোক্র্যাটের আশঙ্কা, ট্রাম্পকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা না করলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয় নেমে আসতে পারে। ট্রাম্প সম্পর্কে কানেকটিকাটের গভর্নর ড্যানেল পি. মাল্লয় বলেন, ‘তিনি বিস্ময়কর, তিনি ভোটারদের চিন্তাভাবনার কথা জানেন এবং তিনি হিলারির কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন।’
হিলারি ক্লিনটন বিশ্বাস করেন, ট্রাম্পের ক্ষুব্ধ এবং বিদ্বেষমূলক মন্তব্যকে তার বিরুদ্ধে নির্বাচনি লড়াইয়ে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
তবে যে ধরনের প্রস্তুতিই চলুক না কেন ডেমোক্র্যাটদের মনে ট্রাম্পকে নিয়ে প্রচণ্ড ভীতি রয়েছে। হিলারির উপদেষ্টাদের আশঙ্কা, ২০০৮ ও ২০১২ সালে ওবামা জিতেছেন, এমন বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প জিতে যেতে পারেন। সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস
/এফইউ/