বহু বছর ধরে পাকিস্তান এ কথার সত্যতা অস্বীকার করে আসছিল যে, দেশটিকে অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহার করছে আফগান তালেবান। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, আফগান তালেবান নেতারা পাকিস্তানে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন।মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে তিনি বলেন, কাবুলের সঙ্গে তালেবানের আলোচনা এগিয়ে নিতে একে চাপ দেওয়ার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের পার্শ্ববর্তী দেশ আফগানিস্তানে সরকারি ও ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৪ বছর ধরে লড়াই করছে তালেবানরা। এ লড়াইয়ে হাজারো বেসামরিক মানুষ এবং দেশি-বিদেশি সেনা ও পুলিশ সদস্যের প্রাণহানি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সফররত সারতাজ আজিজ মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে কাউন্সিল অন ফরেন অ্যাফেয়ার্সে আফগানিস্তান নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে গোলযোগের জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ করা উচিত নয়।
সারতাজ বলেন, ‘তালেবান নেতারা পাকিস্তানে থাকেন, কিছু চিকিৎসা সুবিধা পান এবং তাদের পরিবারও এখানে। তাই তাদের ওপর আমাদের কিছুটা প্রভাব রয়েছে।’
মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সারতাজের বক্তব্য অনুযায়ী তিনি বলেছেন, তালেবানকে আলোচনার টেবিলে আনার জন্য এ বিষয়টিকে চাপ দেওয়ার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে পাকিস্তান।
এর মাধ্যমে মূলত কূটনৈতিক মহলে প্রায় সবারই জানা একটি বিষয় নিশ্চিত করলেন সারতাজ। বিশেষ করে গতবছর পাকিস্তান সরকার তালেবানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সরাসরি আলোচনায় মধ্যস্থতা শুরু করলে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে তালেবান নেতা মোল্লা ওমরের দুই বছর আগেই মৃত্যু হওয়ার খবর ফাঁস হয়ে গেলে ওই আলোচনা থমকে যায়।
উল্লেখ্য, আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনা আবার শুরুর জন্য গত মাসে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন চতুর্থ দফা আলোচনায় বসে। এই চার দেশ মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য তালেবানের প্রতি আহ্বান জানায়। তবে সংগঠনটির একজন মুখপাত্র জানান, তারা কোনও আমন্ত্রণ পাননি।
/এমপি/